
এমএম রহমাতুল্লাহ: ঢাকার আনাচে-কানাচে, অলিতে-গলিতে আবাসিক হোটেল ব্যবসার নামে গড়ে উঠেছে দেহব্যবসা, পতিতাবৃত্তি। এসব দেহব্যবসার আড়ালে চলছে আরো ভয়ঙ্কর অপরাধ কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পতিতাবৃত্তির সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বয়স, শ্রেণী ও পেশার নানা মানুষ। শহরে দৈনন্দিন কাজ ও জীবিকার প্রয়োজনে আসা বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে প্রতারণা করে সর্বস্ব লুটে নেয়াই এই সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য।
গুলিস্তান, পল্টন, সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, ফার্মগেট, গাবতলি, মিরপুর, সদরঘাট সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই এসব এলাকায় বিভিন্ন নাম ও মোবাইল নাম্বার সংবলিত বিভিন্ন রংবেরঙের ভিজিটিং কার্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফুটপাত ও রাস্তা জুড়ে।
যাত্রাবাড়ী থানা থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আতিক ভাই, সিহাব ভাই, মারুফ ভাই সহ বিভিন্ন জনের নামে আবাসিক হোটেলের সন্ধানে থাকা কার্ডের নাম্বারে ফোন দিয়ে জানা যায় অবাক করা তথ্য। পোস্তগোলায় সাধারণ মানের হোটেলের নন এসির ছোট্ট কক্ষের জন্য এক রাতের ভাড়া চেয়েছে ৩৫০০ টাকা, এসি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ৫০০০ টাকা।
বিভিন্ন স্পটে অনুসন্ধান গিয়ে আরো জানা যায়, ঢাকার বাহির থেকে আসা সাধারণ মানুষ না জেনে এসব হোটেলে গিয়ে পড়েছে নানা বিড়ম্বনায়। হোটেলের পরিবেশ দেখে ফিরে আসতে চাইলেও সবকিছু লুটে নেয়ার অভিযোগ ছাড়াও অর্ধ উলঙ্গ নারীদের সাথে ছবি তুলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি, অপহরণের কথাও শোনা গেছে।
এ ব্যাপারে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা যে একেবারেই গৌণ তার হলফ করেই বলা যায়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট ও সচিবালয়ের পাশেই যখন হাজারো কার্ড দেখে সহজেই অনুমান করা যায় পুলিশের ভূমিকা কী এখানে?
যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফারুক হোসেন ও পল্টন মডেল থানার ওসিকে একাধিকবার ফোন করেও এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর মেলেনি।