
জনি সিদ্দিক: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার এক সুপ্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী অংশ হলো আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ধারা। ১৭৮০ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনামলে গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক কলকাতায় এই ধারার প্রবর্তন ঘটে। যার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মুসলিম সমাজ থেকে আরবি, ফারসি এবং ইসলামী আইনের (ফিকহ) পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী কর্মকর্তা তৈরি করা। দীর্ঘ আড়াই শতকের পথপরিক্রমায় আলিয়া মাদরাসা কখনও ছিল মুসলিম সমাজের জ্ঞান ও নৈতিকতার দুর্গ, আবার কখনও আধুনিকায়নের চাপে জর্জরিত এক দুর্বল শিক্ষাধারা। আজ, একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে এই ধারা এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত, যার উত্তরণ কেবল শুধুমাত্র কাঠামোগত পরিবর্তনে নয়, বরং আদর্শিক পুনর্জাগরণের ওপর নির্ভর করে। নিম্নে আমি আলিয়া মাদ্রাসার অতীত স্বর্ণালী গৌরব এবং বর্তমান সংকট ও সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
১.আলিয়া মাদ্রাসার ঐতিহ্যের স্বর্ণালি অধ্যায়:
আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ধারার ইতিহাস ছিল মুসলিম জাতির আত্মপরিচয় ও জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা ধারা প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘকাল এই মাদরাসাগুলো কুরআন, হাদিস, ফিকহ, গণিত, আরবি ও ইংরেজি ভাষার গভীর জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে এমন এক পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলেম সমাজ তৈরি করত, যারা সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব দিতেন। এই শিক্ষাক্রম মূলত ভারতের লখনৌর প্রখ্যাত দরসে নিজামিয়া শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করত। আলিয়া শিক্ষা ধারা বলতে কওমি মাদরাসা থেকে ভিন্ন ধারায় আধুনিকতার সঙ্গে সংযোগ বুঝায়। আলিয়া মাদরাসায় প্রথম থেকেই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি সংযুক্ত রাখা হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসকদের প্রবর্তনের ফলে এখানে ইংরেজি ভাষা, বিজ্ঞান, গণিত ও যুক্তিতর্কের (বালাগাত-মানতিক) মতো বিষয়গুলো পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সমন্বয়ের ফলস্বরূপ, আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন গভীর ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করত, তেমনি অন্যদিকে সরকারি প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত আলেম হয়েছেন এ ধারা থেকে। এক সময়ে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ধারা ছিল কওমি ধারার তুলনায় আধুনিক ও সময়োপযোগী ইসলামী জ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র। এক সময় এই মাদরাসা থেকে যে আলেম সমাজ তৈরি হতো, তারা ছিলেন আল্লাহ্ভীরুতা, সততা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রতীক। তাদের শিক্ষা শুধুমাত্র পরীক্ষার সনদ অর্জনে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবোধ সম্পন্ন। অতীতের একটি গৌরব গাঁথা ইতিহাস রয়েছে, যা সত্যিই ঈর্ষণীয় ছিল।
২. বর্তমান হাল-হকিকত: সংকট, সমস্যা ও বিশ্লেষণ
বর্তমানে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ধারাটি অতীতের সেই গৌরব ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমান অবস্থার পর্যবেক্ষণ অনুসারে, এই সংকটের মূলে রয়েছে মূলত আদর্শিক বিচ্যুতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত আধুনিকীকরণ বলে মনে করছি। তবে এর পাশাপাশি নিম্নে আরো কিছু মতামত তুলে ধরছি।
বর্তমানে আলিয়া মাদ্রাসায় আল্লাহ্ভীরুতার অভাব এবং পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। মূলত শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নেয়ার উদ্দেশ্যেই এই অধঃপতনের মূল কারণ বলে মনে করছি। আখিরাতের সফলতার চেয়ে ইহলৌকিক সুযোগ-সুবিধা মুখ্য হয়ে ওঠায় অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ধর্মীয় দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার গভীরতা কমে আসছে। এতে মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে সবাই বিপথগামী হয়ে পড়ছে। অনেকেই মনে করে অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মাদ্রাসায় পাশ করা অনেক সহজ তাই অনেকে সঠিক ভাবে পড়াশোনা করে না। সবার উদ্দেশ্য থাকে যেন কোন মতে পাশ করতে পারলেই হয়েছে! এরই ধারাবাহিকতায় দেখা যায় দাখিল পাশের পর আলিমে ছাত্র-ছাত্রী তুলনামূলক কম। ফাজিলে তো হাতেগোনা কয়েকজন থাকে! যারা থাকে তাদের অনেকেই কেবলমাত্র সনদের আশায় অথবা ভার্সিটির খরচ যোগাতে না পারার কারণে। ফলে ভবিষ্যতের সঠিক জ্ঞান ও মূল্যবোধ সম্পন্ন আলেম সমাজ তৈরি হচ্ছে না। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এর ব্যতিক্রম আছে— যেমন তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, দারুন নাজাত সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা ইত্যাদি ইত্যাদি। সবগুলো প্রতিষ্ঠান থেকেই যে এমন অবহেলিত ছাত্রছাত্রী থাকে তা নয়। অপরদিকে, কোরআন-হাদিসের মর্ম অনুধাবন না করা এটিই সবচেয়ে বড় আদর্শিক সংকট। আরবি ভাষা জ্ঞানের দুর্বলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী কোরআন ও হাদিসের মূল পাঠ থেকে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করতে পারে না। ফলে তারা অনুবাদ, ব্যাখ্যা মূলক বই এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ধর্মচর্চার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আরবি ব্যাকরণ (নাহু-সরফ)-এ দুর্বল ভিত্তি থাকায় এই শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের মূল চাবিকাঠি থেকে বঞ্চিত হয়। নিজস্ব বিচার বুদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা না থাকায় মৌলিক ইসলামি জ্ঞান দুর্বল হয়। তখন ইন্টারনেট, ইউটিউব বা সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিমূলক, কট্টর বা চরমপন্থী মতাদর্শ সহজে গ্রহণ করে। এতে বাতিল ফেরকা প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তিবোধ ও জ্ঞানের অভাবে তরুণ প্রজন্ম সহজেই এই জ্ঞানহীন ধর্মচর্চা ও ইসলামবিরোধী বা আল্লাহবিরোধী চিন্তাভাবনায় প্রভাবিত হচ্ছে। এজন্য মাদ্রাসায় পড়ার পরেও বেশির ভাগই অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সমাজে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি অবমাননা বাড়ছে।
আবার সবকিছুই যে ছাত্র ছাত্রীদের নিজেদের দুর্বলতা তা বলা যাবে না। এখানে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। যেমন অনেক মাদরাসায় যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে। যদিও বর্তমানে কিছুটা মেধাবীদেরকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা নিয়োগ পাচ্ছেন, তাদের অনেকেই কেবল জীবিকার তাগিদে এই পেশায় আসছেন, ইবাদতের চেতনা নিয়ে নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা যান্ত্রিক শিক্ষা পাচ্ছে, যার কারণে তাদের হৃদয়ে জ্ঞানের আলোর সঞ্চার হচ্ছে না। তাদের অধিকাংশেরই আরবি ভাষার প্রতি আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার প্রাণ হলো আরবি ভাষা। অথচ অনেক আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্র উভয়েই এটিকে কেবল একটি পরীক্ষার বিষয় হিসেবে দেখছেন, আল্লাহর বাণী বোঝার চাবিকাঠি হিসেবে নয়। ফলাফলস্বরূপ, ফাজিল (স্নাতক) বা কামিল (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি অর্জন করেও অনেকে সাবলীলভাবে আরবি লিখতে, বলতে বা কোরআন-হাদিস গভীরভাবে বুঝতে পারেন না। তারা আলো থেকেও আলো বিহীন! প্রাণ থেকেও নিষ্প্রাণ! ঠিক যেমন বিদ্যুৎবিহীন নিয়ন বাতি।
এটা একটা চরম অবমাননাকার, অপমানজনক বিষয়। মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী হয়েও আরবি পড়তে না পারাটা চরম ব্যর্থতা। তবে সবকিছুর মূল হলো ইবতেদায়ী বা প্রাথমিক স্তরে চরম অবহেলা। বর্তমানে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো ইবতেদায়ী স্তর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যে সুযোগ সুবিধা (উপবৃত্তি, জাতীয়করণ) পায়, আলিয়া ধারার ইবতেদায়ী মাদরাসা গুলো তার এক কিঞ্চিৎ পরিমাণও পায় না। এই প্রাথমিক পর্যায়ের চরম অবহেলার কারণে দাখিল (মাধ্যমিক) স্তরে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থীর জোগান কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে এখন শুধু নিম্নবিত্ত গরীব পরিবারের ছেলেমেয়েরা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। যদি ইবতেদায়ী বা প্রাথমিক স্তরেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মতন সুযোগ-সুবিধা এবং বেদনাদি দেয়া হতো তাহলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ছাত্র-ছাত্রী পাওয়া যেত। পাশাপাশি শিক্ষার মন অবশ্যই ভালো হতো। এরপরে আলিয়া মাদরাসা আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের কথা বললেও, অনেক ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও কারিগরি শিক্ষার মান দুর্বল। শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার সমমান সনদ পেলেও, বাস্তব দক্ষতা ও প্রতিযোগিতার বাজারে তারা পিছিয়ে পড়ছে। এর ফলে সৃষ্ট হতাশা অনেক শিক্ষার্থীকে আরও বেশি ধর্মীয় গোঁড়ামি বা হতাশামূলক জ্ঞানহীন ধর্মচর্চার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখনো অনেক মাদ্রাসাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কম্পিউটার ল্যাব, আধুনিক বিজ্ঞানাগার, গবেষণামূলক লাইব্রেরী এসবের কিছুই নেই! তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা উন্নত শিক্ষা গ্রহণ করবে কিভাবে? মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বলে বা আমাদের দেশে একটু বেশিই অবহেলা করা হয়। এর ফলে সুশিক্ষিত, স্বশিক্ষিত দক্ষ ও যোগ্য আলেম তৈরি হচ্ছে না।
৩. প্রত্যাশিত নবজাগরণ: সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ
এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আদর্শিক ও কাঠামোগত উভয় দিক থেকে আমূল সংস্কার করতে হবে। আলিয়া মাদরাসা আবারও সত্য, জ্ঞান ও আলোর কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, যদি নিম্নে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ক. আদর্শিক পুনর্গঠন ও নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ
শিক্ষকদের মধ্যে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি ইবাদতের চেতনা ও আল্লাহ্ভীরুতা ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতিটি শিক্ষককে উপলব্ধি করতে হবে যে তিনি কেবল অফিসের কর্মচারী তৈরি করছেন না, বরং আগামী দিনের চরিত্রবান আলেম ও নেতৃত্ব তৈরি করছেন। তাকওয়া ও ইবাদতের চেতনায় সকলকে নতুন ভাবে উজ্জীবিত হতে হবে। পাশাপাশি অবশ্যই আরবি ভাষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতে হবে। আরবি ভাষাকে শুধুমাত্র পাস করার জন্য নয়, বরং চিন্তায় ও চর্চায় আনার জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে। নাহু-সরফের মতো ব্যাকরণগত ভিত্তি মজবুত করে কোরআন ও হাদিসের সরাসরি জ্ঞানার্জনের দক্ষতা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে কোরআনের আয়াত পড়ে এর গভীর অর্থ অনুভব করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী নিজের ঈমান আমল পরিচালিত করতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনই আলিয়া শিক্ষার সার্থকতা। সহি শুদ্ধভাবে অবশ্যই কোরআন তেলাওয়াত শিখতে হবে। ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে যে ইসলাম শুধু নামাজ-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সততা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, সৃষ্টিশীলতা এবং আধুনিক জ্ঞান অর্জনের প্রেরণা দেয়। যা মানুষকে আল্লাহভীরু, মানবিক ও শিক্ষিত করে তোলে।
খ. কাঠামোগত ও পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলককরণ
শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত উন্নত বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং নৈতিক শিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অযোগ্য শিক্ষককে সরিয়ে যোগ্য, জ্ঞানসম্পন্ন ও আদর্শিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। যারা প্রকৃত ভাবে আরবি, আরবি ব্যাকরণ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে তাদেরকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এর পাশাপাশি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম। পাঠ্যক্রমকে ঢেলে সাজিয়ে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আধুনিক জ্ঞানের (বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নাগরিক শিক্ষা) গভীর সংযোজন ঘটাতে হবে। মাদরাসার বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাবগুলোর মান বাড়াতে হবে। যে সকল প্রতিষ্ঠানে এগুলো নেই সেখানে নতুন করে সংযোজন করতে হবে। আর মূল বিষয় হলো— ইবতেদায়ী মাদরাসার উন্নয়ন করা অবশ্য খেয়ে পড়েছে। প্রাথমিক স্তরকে শক্তিশালী করতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে জাতীয়করণ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমমর্যাদা ও উপবৃত্তি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
গ. সামাজিক সংযোগ ও নেতৃত্বের বিকাশ
আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার্থীদেরকে হীনম্মন্যতা থেকে বেরিয়ে এসে সমাজের মূলধারায় নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত করতে হবে। তারা যেন ইসলামি জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তি-বান্ধব, অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। এই মাদরাসাগুলো থেকেই যেন তৈরি হয় এমন সত্যের প্রজন্ম, যারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ইসলামের সঠিক ও মানবিক বার্তা সমাজে পৌঁছে দেবে।
উপসংহার: আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ধারাটি বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। তবে এই শিক্ষাব্যবস্থা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। এই সংকট মোকাবিলা করে আলিয়া মাদরাসা আবারও জাতির নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরণের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে—যদি এর মূল ভিত্তি, অর্থাৎ আল্লাহ্ভীরুতা ও জ্ঞানের গভীরতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আলিয়া মাদরাসা তার অতীত ঐতিহ্যকে নতুন দিগন্তে পুনর্গঠন করতে পারে, যেখান থেকে জেগে উঠবে আলোকিত ও মানবিক বাংলাদেশ।