
জহুরুল হক মিলু, নড়াইল: শীত আসার সাথে সাথে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় জমে উঠেছে পিঠা বিক্রি। উপজেলা জুড়ে ফুটপাতের দোকান, রাস্তার পাশে, অলিতে-গলিতে ও মোড়ে মোড়ে এখন শোভা পাচ্ছে পিঠার দোকান। শীতের এ মৌসুমে মুখে জল আনা পিঠা-পুলির দোকানে ভিড় করছে শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ। তারা পিঠা খেতে খেতে মজার গল্পে মেতে ওঠেন। বিক্রি বাড়ায় বেজায় খুশি বিক্রেতারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলায় তেমন একটা দেখা না গেলেও সন্ধ্যা থেকেই জমে ওঠে ভ্রাম্যমান এসব পিঠার দোকান। এসব দোকানে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ডিম চিতই পিঠা ও পাটিসাপটা পিঠা বানানো হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা বেশি জনপ্রিয়। উপজেলার পিঠার দোকানগুলোতে প্রতি পিচ চিতই পিঠা ৫ টাকা ও ভাপা পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কোনো কোনো জায়গায় ১৫ টাকায় বিক্রি হয় স্পেশাল ভাপা পিঠা। আবার অনেক দোকানি চিতইপিঠার মধ্যে ডিম দিচ্ছেন। এই ডিম চিতিই পিঠা প্রতি পিচ ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভাপা পিঠা বানালেও চিতই পিঠার সঙ্গে এসব দোকানিরা দিচ্ছে সরিষার ভর্তা, শুটকি ভর্তা, মরিচের ভর্তা ও ধনেপাতা ভর্তা। এসব দোকানে পিঠা খেতে আসা মানুষেরা বলেন, শীতের আমেজে পিঠা খেতে ভালো লাগে।
বিক্রেতারা বলেন, শীতের মৌসুম এলেই তাঁরা কেবল এই ব্যবসায় জড়ান। বছরের অন্যান্য সময় তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন পেশায় শ্রম দেন। তাঁরা বলেন, এ বছর শীতের আগমনে পিঠা বিক্রি শুরু হয়েছে এক মাস ধরেই।
উপজেলার লোহাগড়া পোদ্দার পাড়া, লক্ষীপাশা পোস্ট অফিসের সামনে মশলার দোকানের পাশে, লক্ষীপাশা চৌরাস্তায়, আলা মুন্সীর মোড়, লোহাগড়া জামরুলতা সুইচ গেটের পাশে, ফয়েজ মোড়, কুন্দশী চৌরাস্তা, মানিকগঞ্জ বাজার, শিয়রবর, লাহুড়িয়া, দিঘলিয়া, এড়েন্দা বাজারে এসব শীতের পিঠার দোকান জমে উঠেছে। সারাবছর কম বেশি পিঠা বিক্রি হলেও শীত এলে বেড়ে যায় ক্রেতাদের আনাগোনা। পিঠাপ্রেমিকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে এসব দোকান। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীরাও দোকানে পিঠা বিক্রি করছেন।
বিকেব, রহিমা, মিতা ও আমিন নামে ৪ ক্রেতা বলেন, আমরা প্রায়ই এখানে পিঠা খাই। চাল ভেঙে গুড়া করে পিঠা বানানোর সময় সুযোগ হয় না। ঝামেলা ছাড়া স্বল্প দামে হাতের নাগালে এখন পিঠা পাই। তাই এসব পিঠাই আমাদের ভরসা।
লক্ষীপাশা পোস্ট অফিসের সামনে পিঠা বিক্রেতা মোসাঃ রেবা বেগম বলেন, আমার বাড়ি লোহাগড়া পোদ্দার পাড়া। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ৮ম শ্রেণীতে এবং ছেলে তৃতীয় শ্রেণীতে লেখা পড়া করে। আমি প্রতিদিন এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকার পিঠা বিক্রি করে থাকি। যা দিয়ে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচসহ আমার সংসার চলছে। তবে শীত শেষ হলেই আমরা আবার অন্য পেশায় চলে যাই।
লোহাগড়া পৌরসভার জয়পুর গ্রামের রহমতুল্লাহ শিশির বলেন, বাসায় পিঠা তৈরি করা অনেক কষ্টকর ও ঝামেলা মনে হয়। তাই আমি আমার পরিবারের সদস্যদের জন্য বাজার থেকে চিতই ও ভাপা পিঠা কিনে নিয়ে যাই। আমার পরিবারের সদস্যরা এই পিঠাগুলো খুব পছন্দ করেন।