
মোর্শেদ আলম মালেক, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী গোয়ালন্দের উজানচড়ে ভিক্টর ভিলেজ লিমিটেড নামে মুরগীর ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের জমি দখল, পরিবেশ দূষন ও ফসল আবাদের অনুপোযোগী করার অভিযোগ উঠেছে।দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয়রা তাদের ফসলী জমি আবাদ করতে পারছেন না।এতে চরম লোকসানে পরেছেন তারা।বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা আগারগাঁও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের ইনফোর্সমেন্ট শাখার প্রতিনিধিরা অভিযোগের স্থান পরিদর্শন করেছেন।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচড় ইউনিয়নের দক্ষিন উজানচড়ের মাখন বাবুর পাড়ায় খোলা ফসলী মাঠে স্থানীয় বাসিন্দা ও চাষিদের দুর্ভোগে ফেলে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে গড়তে তুলেছন ভিক্টর ভিলেজ লিমিটেড নামে ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ৩০ বিঘা জমির উপর ৮ টি বিশাল শেড তৈরী করে সেখানে।কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে এ মুরগীর শেডের কারনে শেডের পাশে এসব এলাকাবাসিদের জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না। শেডের মালিক স্থানীয়দের জমি দখলেরও অভিযোগ উঠেছে। গত মে মাসে স্থানীয়রা পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগের ভিত্তিতে
গত বৃহস্পতিবার হ্যাচারীর স্থান পরিদর্শন করেছেন ঢাকা আগারগাঁও পরিবেশ অধিদপ্তরের ইনফোর্সমেন্ট শাখার সহকারী পরিচালক ইয়াসমীন আক্তার সহ প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় জমির মালিক ও চাষিদের অভিযোগ তারা এ স্থানে মুরগীর ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন করার কারনে ফসলী জমিগুলোতে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না।শেড গুলোর ছায়া ও চালের পানিতে জমির ফসল হয়না। ফসল আবাদ করলে ফলন হয়না এ জমিগুলো থেকে।বিভিন্ন সময় হ্যাচারীর ময়লা আবর্জনা ও বায়ু দূষনের কারনে ফসল উৎপাদন সহ স্থানীয়দের বসবাসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। হ্যাচারীর শেডগুলো নিজস্ব জমি ছাড়িয়ে স্থানীয় চাষিদের জমিতে তুলেছেন।শেডের পাশের জমি গুলো সবসময় অনাবাদি হয়ে পরে থাকে।এতে কয়েক শো বিঘা জমির ফসল আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।ফসল আবাদ করা হলেও সেখানে উৎপাদন হয় না ফসল।শুধু ফসলের চারা গজায় ফলন হয়না কোন ফসলের । প্রতিবছর ফসল উৎপাদন না হওয়ায় কৃষকরা লোকসানে পরেছেন। সাধারন কৃষকরা প্রশাসনের কাছে এই হ্যাচারিটি এ স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান।
মুরগীর শেড ঘেঁষা জমির মালিক স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম ব্যাপারী বলেন,গত দশ বছর ধরে এই মুরগীর শেডের কারনে শেডের পাশের জমিতে কোন ফসল হয়না,শেডের ছায়া ও চালের পানিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়।বিভিন্ন সময় ফসলের ক্ষেতে ময়লা ফেলে জমি নষ্ট করা হচ্ছে।ফসলী জমিতে শেডের অংশ বাড়িয়ে দখল করা হয়েছে।এ থেকে পরিত্রান পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা।তার মত আরো জমির মালিক মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন,স্থানীয়দের অভিযোগে আজ পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা এসেছেন।তারা আজকে এ মুরগীর হ্যাচারীর শেডগুলো পরিদর্শন কর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। শেডের পাশে নিয়ম অনুযায়ী যে বাউন্ডারী থাকার কথা তা নেই এই শেডগুলোতে। কিন্তু মালিক পক্ষ পরিবেশ দূষন ও অন্যান্য সমস্যা নিরসনে অবকাঠামোগত কোন পদক্ষেপ নেয়নি।দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান পরিবেশবাদীর মতে আরো জমির মালিকদেরও একই অভিযোগ করেছেন।
গোয়ালন্দ ভিক্টর ভিলেজ লিমিটেড এর মালিক রুহুল আমিন বলেন, তিনি গত আট বছর ধরে এখানে মুরগীর ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন করে আসছেন। ৩০ বিঘা জমির ১৩ বিঘার মধ্যে ৮ টি বড় আকারের মুরগীর শেড রয়েছে।তিনি শুধু তার নিজস্ব জমির মধ্যে মুরগীর শেড তৈরী করেছেন।অন্য কারো জমি তার মধ্যে নাই। প্রশাসন যদি জমি সার্ভে করে তাহলে তিনি থেকে তার সহযোগীতা করবেন।আর জমির মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের কোন আবর্জনা কেউ ফেলেনা বলে জানান।
ঢাকা আগারগাঁও পরিবেশ অধিদপ্তরের ইনফোর্সমেন্ট শাখার সহকারী পরিচালক ইয়াসমীন আক্তার বলেন, আমি এখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের অংশ হতে সেডে রিভিজিট করতে এসেছেন এখন আপনাদের রিপোর্ট করার কিছুই নাই। আমরা পরবর্তীতে এটার উপর আদেশ দিলে রিপোর্ট করতে পারেন।তবে অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে এসে কোন সত্যতা পেলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলেননি।