
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি ঢাকার ধামরাই উপজেলায় সংঘটিত নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের একটি নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এক মুসলিম দম্পতিকে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলা হয়, যার পর স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন ও লুটপাটের শিকার করা হয়। এই জঘন্য অপরাধ নারীর অধিকার, মানব মর্যাদা, নৈতিকতা এবং আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছে, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। এসব অপরাধের কোনো ধর্ম নেই, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী অপরাধীই এবং তাকে অবশ্যই আইনের পূর্ণ আওতায় আনতে হবে।
আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছি—
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের এই ঘটনায় জড়িত সকল অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের জন্য পূর্ণ নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং আইনগত সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য জনমনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। “ধর্ষণের শিকার নারী বা অভিযুক্ত কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি”—এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতা ও অবহেলার ইঙ্গিত দেয়, যা আইনের শাসনের রাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি আরও জোর দিয়ে বলতে চায়, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার মতো অপরাধ কখনোই সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া যাবে না এবং কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে সমষ্টিগতভাবে দায়ী করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের প্রতি সম্মানজনক আহ্বান জানাই—কতিপয় অপরাধীর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের স্পষ্টভাবে পৃথক করুন এবং ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নারীর অধিকার সুরক্ষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিন।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি পুনরায় দাবি জানাচ্ছে যে, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খান হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ওসি প্রদীপের মৃত্যুদণ্ড অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
ন্যায়বিচার কখনো রাজনৈতিক স্বার্থ, নির্বাচনী হিসাব বা কোনো ধরনের বহিরাগত চাপের কাছে জিম্মি হতে পারে না।
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি বিশ্বাস করে— নারীর অধিকারই মানবাধিকার। মানবাধিকার সর্বজনীন ও অবিভাজ্য; ধর্ম, রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানবাধিকার ভিন্ন হতে পারে না।
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলায় নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সমাজে নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীর হবে।
অতএব আমরা অবিলম্বে—
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত সকল অপরাধীর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি ন্যায়বিচার, নারীর মর্যাদা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। আমরা ন্যায়ের পক্ষে।
ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি