
মোঃ জসীম উদ্দীন, রাজশাহী: মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, অত্র মামলার বাদীনী নাজেরা বেগম এর স্বামী ভিকটিম গোলাম মোস্তফা (৫২) রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন ডাঁশমারী এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ শেষ করে সন্ধ্যার পর এশার নামাজ পড়তে খোঁজাপুর গোরস্তান ঈদঁগাহ সংলগ্ন খোঁজাপুর শাহী জামে মসজিদে যেতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ইং ১৪/০২/২০২৬ খ্রিঃ সময় ২০:১০ ঘটিকায় ভিকটিম গোলাম মোস্তফা এশার নামাজ পড়তে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন খোঁজাপুর মোড় হইতে ১০০ গজ পশ্চিমে জনৈক হেলালের বাড়ির সামনে পাঁকা রাস্তার উপর পৌছাঁমাত্রই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের আসামি হাসিবুল মোল্লা ও তার সহযোগী পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিম গোলাম মোস্তফাকে ডান পায়ের হাঁটুর উপর গুলি করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল হতে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে জরুরী বিভাগের নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৪/০২/২০২৬ ইং ২১.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিমকে মৃত ঘোষনা করে। উক্ত ঘটনার পরপরই এলাকায় থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি দেশব্যাপী প্রিন্ট, ইলেক্টনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় ০৩ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫ তারিখ ১৫/০২/২০২৬ ইং, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ তৎসহ অস্ত্র আইন ১৮৭৮ এর ১৯এ উল্লেখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ছায়া তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেফতারের অভিযানে নামে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৫, সদর কোম্পানী, রাজশাহী এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খিঃ সময় ০০.০৫ ঘটিকায় রাজশাহী জেলার চারঘাট থানাধীন ধর্মহাটা পটিয়াকান্দি এলাকায় অপারেশন পরিচালনা করে উক্ত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২নং আসামী মোঃ উকিল (৫২), পিতা- মোঃ নহির উদ্দিন, সাং- খোঁজাপুর, থানা- মতিহার, জেলা আরএমপি রাজশাহীকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি উক্ত ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।