
কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া চুরির মামলার আসামি মনিরুল ইসলাম (৩০) কে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে উপজেলার সিঙ্গীমারী এলাকা থেকে চুরির অভিযোগে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে আসার সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় মনিরুল আচমকা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সে এসআই মতিউর রহমানকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং হাতকড়া পরা অবস্থাতেই দ্রুত দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশের হেফাজত থেকে এভাবে একজন আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে। রাতেই একাধিক টিম গঠন করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার স্থানগুলোতে জোরদার তল্লাশি চালানো হয়।
অবশেষে রাতভর অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ভোররাতে সিঙ্গীমারী এলাকার একটি জঙ্গল থেকে মনিরুল ইসলামকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তার হাতে হাতকড়াও পরা ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে এসআই মতিউর রহমান বলেন, “আমি মোবাইলে কথা বলছিলাম। হঠাৎ করে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমরা অভিযান চালিয়ে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করি।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রমজান আলী বলেন, “আসামিকে ধরতে রাতভর চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আমরা তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চুরির মামলা রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে নতুন করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও জানান, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।