
কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২৬ মার্চ বিকেলে ইউএনও মনোনিতা দাস কোনো পূর্ব নোটিশ বা পুলিশি উপস্থিতি ছাড়াই তার মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করেন। এসময় তার সঙ্গে মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন, স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকুরউদ্দীনসহ প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি দল উপস্থিত ছিল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সেখানে এক ধরনের ‘মব’ তৈরি করে বসতবাড়ির সাইনবোর্ড ও স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। তাকে ও তার সন্তানদের জোরপূর্বক জমি থেকে বের করে দিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেটের প্রায় ১০ হাজার ইট, ১০০ বস্তা সিমেন্ট এবং প্রায় ২ লাখ টাকার রড লুটপাট করা হয়।
গোবিন্দ চন্দ্র সরকার বলেন, এই জমি সরকারি খাস জমি নয়। ১৯৪৩ সালে তার পিতা প্রায় ১৭ দশমিক ৫ একর জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এর একটি অংশ সরকার অধিগ্রহণ করে নেয় এবং অবশিষ্ট ২ একর ১৭ শতাংশ জমি ১৯৬২ সালে তার পিতার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। ইতোমধ্যে জমির একটি অংশ স্থানীয় বিদ্যালয় ও মন্দিরের জন্য দান করা হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে তিনি বৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করছিলেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন আইন মেনে চলা নাগরিক। যদি কোনো ত্রুটি থাকতো, তাহলে আমাকে নোটিশ দিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া যেতো। কিন্তু কোনো পুলিশ ছাড়া যেভাবে স্থানীয় লোকজন নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাকে টেনে-হিঁচড়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভিডিও ধারণেও বাধা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দখলকৃত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।