
আইনের মাধ্যমে বাড়ি যেতে চাই ভুক্তভোগী লোকজন
মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা শ্রীপুর আমতৈল গ্রামে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটে প্রায় ৫০ টি পরিবার নিঃস্ব, থানা পুলিশ সব জানার পরও মামলা না নেওয়ার অভিযোগ। নিঃস্ব পরিবারগুলোর দাবি সরকার ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি ও সবাই নিজ বাড়িতে ফিরতে চাই।
অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসার মোঃ হাশেম আলী (৬২) পিং- শুকুর মাহমুদ জোয়ার্দ্দার জানান গত বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যা অনুমান ৫.৪৫ টার সময় তার ও আমতৈল গ্রামের শুকুর মাহমুদ জোয়াদ্দারের কন্যা ও পুত্র নাজমা বেগম, রাশেদ জোয়াদ্দার, মৃত ছব্দুল শেখের পুত্র মোঃ আকিদুল শেখ, মৃত শমসের মোল্যার পুত্র মোঃ ছদর মোল্যা, মৃত ওহাব মল্লিকের পুত্র রফিকুল মল্লিক, মৃত ওহাব মাল্লকের পুত্র রহিম মল্লিক, মৃত দেলোয়ার মোল্যার পুত্র নূরোল মোল্যা, গনি মোল্যার পুত্র জিল্লু মোল্যা, মৃত আকতার বিশ্বাসের পুত্র মতিন বিশ্বাস, মৃত শমসের মোল্যার পুত্র দাউদ মোল্যা সহ প্রায় ৫০ জন লোকজনের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।
এই অপরাধমূলক কাজে তারাউজিয়াল গ্রামের মৃত রশিদ বিশ্বাসের পুত্র মোঃ ফারুক বিশ্বাস (৫০) এর হুকুমে ও নেতৃত্বে মৃত রহমান মোল্যার পুত্র মোঃ মুক্তার মোল্যা (৪০), মৃত ইসমাইল মোল্যার মোঃ লাবলু মোল্যা (৪০) মোঃ লাড্ডু মোল্যা (৩৫), আইন উদ্দিন মোল্যার পুত্র মোঃ মিরাজ মোল্যা (৪০), মত ফজলে করিমের পুত্র মতিয়ার মোল্যা (৪৫), সাহেব মোল্যা (৫০), মৃত দেলবর মোল্যার পুত্র আলম মোল্যা (৫০), আলম মোল্যার পুত্র মোঃ ফারুক মোল্যা (২৫) ও মৃত ঈমান শিকদারের পুত্র ইউছুব শিকদার (৫০) সহ ২০০ জনের অধিক লোকজন বাড়ি ঘর লুটপাট, হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে।
তারা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক মোঃ ফারুক বিশ্বাসের নেতৃত্বে সকলে একযোগে দেশীয় অস্ত্র, রামদা, ছ্যানন্দা, শোরকি, বল্লম, ট্যাটা, লোহার রড, হাতুড়ি, শাবল, ঢাল নিয়ে ডাক চিৎকার করিয়া ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তাদের উগ্রতা দেখে সাধারন মানুষ জীবনের ভয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে এবং তাদের কর্মকান্ড সমগ্র এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। মোঃ হাশেম আলীর বাড়ীর সামনে আসলে মোঃ ফারুক বিশ্বাস অন্যান্য লোকজনদের হুকুম দিয়ে বলে যে, হাশেম ও ওর ভাই, ভাতিজা কারও রক্ষা নেই। সবার বাড়ী ঘর ভাংচুর করতে হবে এবং মালামাল টাকা, পয়সা যা পাবি তাই লুট কর। হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে একযোগে হাশেম আলী জোয়াদ্দার এর ঘর জানালা, দরজা রামদা, ছ্যানদা, শাবল দিয়ে ভাংচুর করে এবং পশ্চিম পোতার ঘরের ভিতর প্রবেশ করে ঘরে বিভিন্ন আসবাবপত্র চেয়ার, টেবিল, সোফা, আলমারী ভাংচুর করে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং ঘর থেকে টিভি এবং ফ্রিজ নিয়ে চলে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা এবং ঘর থেকে বস্তায় ভরে ধান মুসুরি নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১,৫০,০০০/- টাকা। এরপর নাজমা বেগমের ঘরের টিন, জানালা, দরজা ভাংচুর করে আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি করে এবং নাজমা বেগমের পাকা রাস্তার সাথে পশ্চিম পোতার ঘর থেকে টিভি নিয়ে চলে যায় এবং উক্ত ঘর থেকে ফ্রিজ নিয়ে আনুমানিক প্রায় ২ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। কাশেম জোয়াদ্দারের বাড়ীর পূর্ব পোতার টিনের ঘরে রামদা, ছ্যানদা, লোহার রড, শাবল দিয়ে হামলা করে ভাংচুর করে এবং জানালা দরজা ভেংগে ভিতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ফার্নিচার ভাংচুর করে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। মোঃ আকিদুল মোল্যার বাড়ী একযোগে হামলা করে এবং ঘরের জানালা, দরজা, আসবাবপত্র ভাংচুর করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং একযোগে হামলা করে এবং ঘরের দরজা জানালা আসবাবপত্র ভাংচুর করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং আকিদুলের গোয়াল ঘর থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা দামের ২টি গাভী গরু লুট করে নিয়ে যায়। ঘরের ভিতর থেকে ৫০,০০০/- টাকা নগদ এবং আকিদুলের ঘরের আলমারীর ড্রয়ার থেকে স্বর্নালংকার লুট করে নিয়ে যায়। রফিকুল মল্লিক ও রহিম মল্লিক এর বাড়ীতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং রফিকুল মল্লিকের প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে জ্বালাই দেয়। নুরোল মোল্যার পূর্ব ও দক্ষিন পোতার ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং ঘর থেকে টিভি, ফ্রিজ লুট করে নিয়ে যায়। যার বাজার মূল্য দেড় লক্ষ টাকা। জিল্লু মোল্যার উত্তর পোতার টিনের ঘরে রামদা, ছ্যানদা, শোরকি, বল্লম দিয়ে জানালা, দরজা, টিনের ঘরের বেড়া আসবাবপত্রের ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। আসামী মতিন বিশ্বাসের বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। দাউদ মোল্যার ২টি দোকান ভাংচুর করে এবং দোকান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার, চাউল, তেল, ফ্রিজ আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে। ঘটনার দিন সমস্ত আসামীরা বাদী ও স্বাক্ষীদের প্রায় ১ কোটি টাকার অপূরনীয় ক্ষতি সাধন করে। এহেন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পরে অস্ত্র উঠিয়ে উল্লাস করতে করতে স্থান ত্যাগ করে। মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার উক্ত ধ্বংস যোগ্য পরিদর্শন করে। তাই বিজ্ঞ আদালতে সমস্ত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা দিয়ে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় অপরাধ আমলে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাগুরা সিআর ১৩/২৬.
সাবেক শ্রীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক শ্রীপুর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান সব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ লিপ্টন মিয়া জানান, সোহাগ বিশ্বাস, মিজান বিশ্বাস, পাচো মিয়ে, তহুর মোল্লা, মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম, হাশেম আলী, নুরুল, আলম, রফিকুল, জিল্লু, মতিন, আকিদুল, আমানত, শাহীন, তালেব, আইয়ুব, রহিম সহ আরও ৪০-৫০ জনের বাড়ি ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। সব্দালপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাইফুলের পোষা পাখির ফার্ম ব্লিডিং আগুন দেওয়ার কারণে সম্পূর্ণ পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে, দাউদ মোল্লার ৩ টা দোকান ব্যাপকভাবে লুটপাট হয়েছে। শহিদ শেখ, ফজলু শেখ ও মঞ্জু শেখ সহ সবাই এখন জীবননাশের হুমকি ও খুন জখমের ভয়ে বাড়িতে উঠতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষকলীগের ঢাকা উত্তর মহানগরের সভাপতি মাকসুদুলের ভাই ফারুক, মাসুদ সহ অনেক লোকজনের নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাট চলে। এরা আওয়ামীলীগের লোক হয়ে বিএনপির লোকজনের উপর হামলা, লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে বাড়ি ছাড়া করে দিয়েছে।
আমতৈল গ্রামের শহীদ বিশ্বাস জানান, আমরা বিএনপি দল করি আর লিপ্টনের সাথে সামাজিক ভাবে চলাফেরা করি তার জন্য ফারুক বিশ্বাসের লোকজন আমাদের বাড়ি ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে বাড়ি ছাড়া করে দিয়েছে ওরা আওয়ামীলীগ করে। ঘটনার দিন আমরা লিপ্টনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ছিলাম বলে এখনও প্রাণে বেঁচে আছি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তারেক রহমান ও মাগুরা প্রশাসনের কাছে আমরা বিচার চাই এবং দ্রুত আমরা ক্ষতিগ্রস্থ সবাই বাড়িতে যেতে চাই।
ঘটনার এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য ফারুক বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার সাথে সহ অন্যানদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি ও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।