
জনি সিদ্দিক: ইতিহাসের কিছু টার্নিং পয়েন্ট থাকে যা একটি ঘুমন্ত জাতির আত্মপরিচয় আর আত্মমর্যাদাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। ২০২১ সালের মার্চ মাস বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসে তেমনই এক অগ্নিগর্ভ ও রক্তক্ষয়ী টার্নিং পয়েন্ট। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হওয়ার কথা ছিল আনন্দ, জাতীয় ঐক্য আর গৌরবের এক মহোৎসবে, কিন্তু তা রূপ নিল এক পরাধীনতা ও আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয় আন্দোলনে। এই তীব্র আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর। যার রাজনীতির মূল ভিত্তিটাই দাঁড়িয়ে আছে সাম্প্রদায়িক বিভাজন, উগ্র জাতীয়তাবাদ আর সংখ্যালঘু মুসলিম নিধনের ওপর, সেই বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাংলার মাটিতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পরম লগ্নে স্বাগত জানানো এদেশের কোটি কোটি মুক্তিকামী মানুষ মেনে নিতে পারেনি। এই প্রতিবাদ কেবল এক ব্যক্তির নিছক বিরোধিতার মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল এদেশের মাটি, মানুষ, ধর্মীয় মূল্যবোধ আর ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ। এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল যে, বাংলার সাধারণ মানুষ আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করতে শেখে নাই। এই আন্দোলন মূলত কয়েকটি কারণে সংঘটিত হয়েছিল। তা আমি নিম্নে আলোকপাত করব ইনশাল্লাহ।
১. আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও কারণ
এই ক্ষোভের আগুন রাতারাতি বা হঠাৎ করে জ্বলে ওঠেনি, এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বেদনা, বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার করুণ ইতিহাস। দিল্লির আধিপত্যকামী মনোভাব এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে বরাবরই আহত করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ ভারতের সাথে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেও প্রতিদানে পেয়েছে কেবল শোষণ ও অবহেলা। সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে কিশোরী ফেলানীসহ অসংখ্য নিরপরাধ বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও তার কোনো সুষ্ঠু বিচার মেলেনি। বারবার সীমান্তে মাদকদ্রব্য পুশ ইন করা হয়েছে। অবৈধ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অভিন্ন নদীগুলোর উজানে বাঁধ দিয়ে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে প্রতিনিয়ত ভাটির দেশ বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা এদেশের কৃষি ও অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের জাতীয় আত্মমর্যাদাকে এসব ঘটনা বারবার ক্ষুণ্ণ করছিল।
তার ওপর ভারতের অভ্যন্তরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চর্চার মাধ্যমে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রহীন করার চক্রান্ত এবং গুজরাট দাঙ্গা থেকে শুরু করে দিল্লির রাজপথে মুসলমানদের ওপর চালানো দীর্ঘস্থায়ী নিপীড়নের প্রতীক নরেন্দ্র মোদীকে যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রধান অতিথি করা হলো, তখন তা এদেশের মানুষের ক্ষতে নুনের ছিটার মতো কাজ করেছিল। এই আধিপত্যবাদের বিষদাঁত ভাঙতেই রাজপথে নেমে এসেছিল দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ। জনগণের সেন্টিমেন্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিল্লির তাঁবেদার তৎকালীন সরকার যখন মোদীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়ার তোড়জোড় করছিল, তখনই চূড়ান্ত প্রতিরোধের ডাক আসে বাংলার আপামর জনতার পক্ষ থেকে।
২. জনসাধারণের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা
২০২১ সালের মার্চ মাসের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, বিশেষ গোষ্ঠী বা শ্রেণির একচ্ছত্র আন্দোলন ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল আপামর জনসাধারণের এক নিখাদ আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক জাগরণ। প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে ডান-বাম, প্রগতিশীল কিংবা ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ সব ধরনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতাদর্শের দেয়াল ভেঙে সবাই এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিল। রাজধানী ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এই প্রতিবাদের উত্তাল ঢেউ। রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, দিনমজুর থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার হয়েছিল।
মানুষ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল, ভৌগোলিক সীমানার সার্বভৌমত্ব শুধু মানচিত্রের কাঁটাতারে কিংবা কাগজের ভেতর বন্দি থাকে না, তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্পন্দিত হয়। যখনই জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে, বাংলার মানুষ সব বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হয়েছে। এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তৎকালীন ফ্যাসিবাদের ভয়ংকর থাবা ও গুম-খুনের সংস্কৃতির মধ্যেও মানুষের ভেতরের দ্রোহের আগুন নিভে যায়নি। সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমে ব্যারিকেড তৈরি করেছে, মিছিলে শামিল হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩. নেতৃত্ব ও সংগঠনের দিক
এই আন্দোলনের সবচেয়ে উজ্জ্বল, সাহসী এবং ঐতিহাসিক দিক ছিল এদেশের আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতার অগ্রণী ভূমিকা। যুগ যুগ ধরে এদেশের প্রতিটি জাতীয় সংকটে, ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং অধিকার আদায়ে এদেশের আলেম সমাজ যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে, তারই এক অকুতোভয় পুনরুত্থান দেখা গেল ২০২১ সালের মার্চে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পবিত্র চত্বর থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজপথ কাঁপিয়ে তুলেছিল সর্বস্তরের মুসলিম জনতা, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ।
কোনো পার্থিব চাওয়া-পাওয়া বা ক্ষমতার লোভের জন্য নয়, বরং নির্ভেজাল ঈমানি চেতনা, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং খাঁটি দেশপ্রেমের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণে আলেম সমাজ এই আন্দোলনের প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাদের এই নিঃস্বার্থ অবস্থান ও সাহসী ডাক সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামার অভয়বাণী ও প্রেরণা জুগিয়েছিল। আলেমদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, এদেশের মাটি ও মানুষের শেকড়ের সাথে ইসলামের যে আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে, তা যখনই আঘাতপ্রাপ্ত হবে, আলেম সমাজ তখনই বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাদের সুশৃঙ্খল প্রতিরোধ ও আদর্শিক দৃঢ়তা এই আন্দোলনকে কেবল একটি সাময়িক প্রতিবাদ নয়, বরং একটি আদর্শিক লড়াইয়ের রূপ দিয়েছিল।
৪. রাষ্ট্র ও নাগরিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ
২১-এর মোদী বিরোধী আন্দোলন রাষ্ট্র এবং তার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিদ্যমান একটি বিরাট ফাটল ও আস্থার সংকটকে খোলাখুলি ভাবে প্রকাশ করেছিল। একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্রে নাগরিকের প্রধান অধিকার হলো সরকারের যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করা, যৌক্তিক সমালোচনা করা এবং রাজপথে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো। কিন্তু তৎকালীন ভোটারবিহীন স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী জনগণের সেই ন্যায্য ও সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারকে শ্রদ্ধা জানানোর বদলে বেছে নিয়েছিল পাশবিক বলপ্রয়োগ ও দমনের বর্বর পথ। নরেন্দ্র মোদীর আজ্ঞাবহ সরকার ক্ষমতার দম্ভে এবং প্রভুদের সন্তুষ্ট করার নেশায় অন্ধ হয়ে আলেম সমাজ এবং সাধারণ আন্দোলনকারীদের ওপর লেলিয়ে দিয়েছিল দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী, হেলমেট বাহিনী এবং অতি-উৎসাহী পুলিশ প্রশাসনকে।
বায়তুল মোকাররমের সিঁড়ি থেকে শুরু করে হাটহাজারী আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল সাধারণ মুসলিম জনতার তাজা রক্তে। ঝরে পড়েছিল ১৯টি তরতাজা তরুণের প্রাণ। কারারুদ্ধ করা হয়েছিল শত শত আলেম, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে। এই রাষ্ট্রীয় গণহত্যা ও নির্মম রক্তপাত প্রমাণ করেছিল যে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইচ্ছা ও সম্মতির তোয়াক্কা করে না। বরং দিল্লির মসনদ রক্ষা এবং অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে তারা নিজ দেশের নিরস্ত্র মানুষের বুকেও নির্দ্বিধায় ভারী মরণাস্ত্রের গুলি চালাতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। রাষ্ট্র যখন অভিভাবকের ভূমিকা ছেড়ে শোষক ও জল্লাদের রূপ ধারণ করে, নাগরিকের সাথে তার সম্পর্ক তখন আর স্বাভাবিক থাকে না।
৫. সমকালীন রাজনীতিতে এর প্রভাব
তৎকালীন সরকার বুলেটের জোরে, নির্বিচার গ্রেপ্তার আর মামলার ভয় দেখিয়ে এই আন্দোলনকে হয়তো সাময়িকভাবে রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে পেরেছিল, কিন্তু মানুষের মনের ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনাকে তারা তিলমাত্র ধ্বংস করতে পারেনি। ২১-এর মার্চে শহীদ হওয়া ভাইদের সেই পবিত্র রক্ত বৃথা যায়নি। সমকালীন ও বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই আন্দোলনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী এবং গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনকারী। এটি এদেশের নিস্তব্ধ মানুষকে শিখিয়েছে কীভাবে ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হয়। এটি এদেশের ডান, বাম ও ধর্মীয় শক্তির মধ্যে এক ধরনের অলিখিত মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ও সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল, যা পরবর্তী বছরগুলোতে বৃহৎ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে আরও শাণিত ও বেগবান করেছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ শের জুলাইতে স্বৈরাচারী সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে।
এই রক্তের সিঁড়ি বেয়েই দল-মত নির্বিশেষে মানুষ অনুধাবন করতে পেরেছে যে— মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম এবং আপসহীন জাতীয় ঐক্য। মোদী বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'দিল্লি তোষণ' বা 'ভারতের দালালি' করার রাজনীতি মানুষের কাছে চরমভাবে ঘৃণিত হয়ে পড়ে এবং মানুষ বিকল্প ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির দাবি তুলতে শুরু করে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে তীব্র ঘৃণা ও সচেতনতার জন্ম হয়েছিল, তারই ফসল আমরা সমকালীন মুক্তিকামী বাংলাদেশে দেখতে পাই। এই আন্দোলন এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে বার্তা দিয়েছিল যে, জনগণকে পাশ কাটিয়ে কেবল বিদেশি প্রভুদের আশীর্বাদ নিয়ে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না।
মার্চ ২০২১-এর আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল, ত্যাগের এবং রক্তাক্ত রক্তিম অধ্যায়। এটি কেবল এক সপ্তাহের রাজপথের বিক্ষোভের কোনো বিচ্ছিন্ন গল্প নয়, এটি হলো দিল্লির আধিপত্যকামী চোখ রাঙানিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এদেশের আপামর মেহনতি ও ধর্মপ্রাণ জনতার মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এক শাশ্বত মহাকাব্য। আধিপত্যবাদের শিকল ভাঙার এই অসম লড়াইয়ে যে ১৯টি অমূল্য প্রাণ ঝরে গেছে, তাঁরা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার চিরকালীন অতন্দ্র প্রহরী।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্ম ও সচেতন সুশীল নাগরিক সমাজের প্রধানতম দায়িত্ব হলো এই আধিপত্যবাদবিরোধী গৌরবময় চেতনাকে নিজেদের মননে ও মগজে লালন করা। শহীদদের এই আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি সত্যিকারের স্বাধীন, সার্বভৌম, শোষণমুক্ত ও মর্যাদাবান নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। সেই মার্চে রাজপথে পড়া শহীদদের পবিত্র রক্ত আর আলেম সমাজের সীমাহীন আত্মত্যাগ বাংলার আকাশে-বাতাসে চিরকাল অন্যায়, জুলুম এবং আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অবিনাশী প্রেরণা দিয়ে যাবে। দিল্লি, আমেরিকা, পাকিস্তান বা অন্য যেকোন দেশের আগ্রাসন যতবার এই মাটিকে গ্রাস করতে চাইবে, ততবারই ২১-এর মার্চ আর ২৪-এর জুলাই আমাদের প্রতিরোধের বাতিঘর হয়ে পথ দেখাবে।