
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাহী কমিটির (এনইসি) জরুরি সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে সরকার দেশকে নতুন করে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রবিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশেষ এই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সভায় তিনি বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা, সুপ্রিম কোর্ট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, গুমবিরোধী অধ্যাদেশ এবং দুর্নীতি দমনবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আইন বাতিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রমাণ করে সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, “বর্তমান সরকার গায়ের জোরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং অতীতের স্বৈরাচারী কাঠামো টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।” তিনি আরও বলেন, সংবিধান কোনো দলের স্বার্থরক্ষার ঢাল হতে পারে না; এটি জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হওয়া উচিত।
সভাটি পরিচালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আজম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নুরুল গাফ্ফার এবং শ্যাডো বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস নোমান খান।
ভার্চুয়াল বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে এবং আইনের শাসন উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা সতর্ক করে দেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
সভায় বক্তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, বিএম নাজমুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল বাসেত মারজান, অ্যাডভোকেট সানাউল হক, ইঞ্জিনিয়ার লোকমান হোসেন এবং মো. ছিদ্দিকুর রহমান।