
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট সদর উপজেলার তেলীপাড়া এলাকার যুবক সুমনের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের দিনেই মামলার কয়েকজন আসামির জামিন মঞ্জুর হওয়ায় জেলায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টায় লালমনিরহাট শহরের শেখ শফিউদ্দিন কমার্স কলেজ ও দক্ষিণ খোদ্দসাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে এলাকাবাসী, বন্ধুমহল ও লায়ন্স স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত মানুষ অংশ নিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে “সুমন হত্যার বিচার চাই” ও “খুনিদের ফাঁসি চাই” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন।
মানববন্ধনে নিহত সুমনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে নিহতের মা আনোয়ারা বেগম ও ভাবি মুক্তা বেগম বলেন, “সুমন নিরীহ মানুষ ছিল, আমরা তার হত্যার বিচার দেখতে চাই।”
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন দক্ষিণ খোদ্দসাপটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান আমিনুর, শেখ শফিউদ্দিন কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান, বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সংগঠনিক সম্পাদক মো. আল-আমিন এবং কবি ও সাংবাদিক হেলাল হোসেন কবির।
বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা সমাজ ও আইনের জন্য চরম অবমাননাকর। তারা পুলিশ প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন এবং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন—দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে একই দিন আদালতে মামলার ৫ জন আসামির জামিন মঞ্জুর হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। তাদের প্রশ্ন, “যেখানে আমরা বিচার চাইতে রাস্তায়, সেখানে আসামিরা কীভাবে জামিন পায়?” এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এছাড়া এলাকাবাসী আবুল কালাম, এরশাদুল হক আসাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও বক্তব্য রাখেন। পুরো কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন লায়ন্স স্পোর্টিং ক্লাব চাঁদনী বাজারের আহ্বায়ক মো. সাদ্দাম হোসেন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।