
সৈয়দ আখতার সিরাজী: বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কোন না কোন হরমোন জনিত রোগে আক্রান্ত। অথচ বেশিরভাগ মানুষই এসব রোগ সম্পর্কে সচেতন নয়। তবে এই চিকিৎসা কার্যক্রমে সামগ্রিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল অথবা এন্ড্রোক্রাইন ইন্সটিটিউট করা প্রয়োজন।
আজ ( ২৫ এপ্রিল) শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি) আয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা ও মুক্ত আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন।
মুক্ত আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশে হরমোনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা নীরবে মহামারির আকার ধারণ করছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫৫% শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো হরমোনজনিত ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। তবে এসমর্কে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা না থাকায় অধিকাংশ মানুষই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় না। দেশে ৭৫% ডায়াবেটিস ও ৫৫% শতাংশ থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। থাইরয়েড একটি নীরব ঘাতক।
চিকিৎসকরা বলেন, হরমোন জনিত রোগ নীরব ঘাতক। এর কারণে স্থূলতা, দূর্বলতা, পুরুষালী ও মেয়েলী নানান সমস্যা এমনকি বন্ধ্যাত্ব ও যৌন সমস্যার নানা রোগের উপসর্গ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও এসেডবি এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, দেশে অন্তত ৫ কোটি মানুষ থাইরয়েড ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। সেজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক বোঝা দূর করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. ফরিদ আরও বলেন, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন জনিত রোগের চিকিৎসা হচ্ছে। তবে এই চিকিৎসা কার্যক্রমে সামগ্রিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল অথবা এন্ড্রোক্রাইন ইন্সটিটিউট করা প্রয়োজন বলে মত এই বিশেষজ্ঞের। এ ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন জানান, অধিকাংশ হরমোনজনিত রোগই প্রতিরোধযোগ্য। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল ইসলাম, রেনাটা পিএলসির হেড অব মার্কেটিং (ডার্মা পোর্টফোলিও) মো. খায়রুল ইসলাম, ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও চ্যানেল আই প্রতিনিধধি আকতার হোসেন ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ডিআরইউর দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সিনিয়র সদস্য সুকুমার সরকার , সৈয়দ আখতার সিরাজী, কার্যনির্বাহী সদস্য আলী আজম, মাহফুজ সাদি ও সুমন ।
উল্লেখ্য হরমোন পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেছে রেনাটা পিএলসি।