
কল্লোল আহমেদ লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি হারানো এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও এডিসি (আইসিটি/এডুকেশন)-এর আন্তরিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মেধাবী শিক্ষার্থী বিশাল সরকারের শিক্ষা জীবন থেমে যেতে দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল।
জানা যায়, লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের ছাত্র বিশাল সরকার বাংলা ১ম ও ২য় পত্র পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর হঠাৎ চোখে মারাত্মক সমস্যায় পড়েন। প্রথমে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসলেও অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কার্যত দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। এতে তার পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত উদ্যোগ নেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও এডিসি (আইসিটি/এডুকেশন)। তাদের দিকনির্দেশনায় সিভিল সার্জন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সংশ্লিষ্টরা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেন, যাতে বিশালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম, তিস্তা কে আর খাদেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল হক সরকার, সাংবাদিক কল্লোল আহমেদ, ইংরেজি শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম নিঝুম, প্রাইভেট শিক্ষক মো. খাইরুল ইসলাম এবং স্কাউট সদস্যবৃন্দ।
তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশালের জন্য রাইটার (সহকারী লেখক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদনান। তার সহায়তায় বিশাল নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিশালের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কুলাঘাট বাজার এলাকায়। তার বাবা বিশ্বজিৎ সরকার এবং ছোট বোন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিশাল একজন ভদ্র, মেধাবী ও আদর্শবান ছাত্র হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
এদিকে, বিশালের এমন সংকটময় অবস্থার খবর পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তার বন্ধু লতিফুর রহমান নাহিদের বাবা সাংবাদিক কল্লোল আহমেদ। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন, যার ফলেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং প্রমাণ করে—সদিচ্ছা থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না।