
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রমাণসহ অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
অভিযোগে জানা গেছে, কিছু অসাধু চক্র বিদেশে পড়াশোনার সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি, মানি লন্ডারিং, অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং জাল ভিসা সরবরাহের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক সার্ভিস চার্জ নেওয়া হচ্ছে, এমনকি টিউশন ফি আত্মসাতের ঘটনাও সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের প্রতারণা শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যা ভবিষ্যতে বৈধ শিক্ষার্থীদের জন্যও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যেকোনো স্টুডেন্ট কনসালটেন্সির সেবা গ্রহণের আগে তাদের বৈধতা, পূর্ববর্তী সাফল্য, এবং সরকারি অনুমোদন যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ—প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও সমাজের সচেতন অংশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই প্রতারণা প্রতিরোধ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।