
জেলা, প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় জিংকসমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে “জিংক ধান ব্রি ধান-১০২” শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ মে) বিকেলে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে “রিয়েক্টস-ইন” প্রজেক্টের আওতায় উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের কুশারিগাঁও বাজার সংলগ্ন মাঠে এ কৃষক মাঠ দিবসের আয়োজন ও পরিচালনা করে উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোমরাদহ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য মোছা. ফাতেমা বেগম। বক্তব্যে তিনি হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ ও ইএসডিওকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি নিজেও জিংক ধান ব্রি ধান-৭৪ এর আবাদ করেছি। এই চালের ভাত আমি আমার পরিবারসহ খাচ্ছি। জিংক ধানের ভাত খেলে পুষ্টি ও মেধা—দুটোই বৃদ্ধি পায়। তাই সবাইকে জিংকসমৃদ্ধ ধানের চাষ ও ভোজন বাড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অপুষ্টি দূরীকরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও এর উপকারিতা ছড়িয়ে দিতে হবে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, কুশারিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম মো. শহিদুল ইসলাম, ভেলাতৈর আদর্শ হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র রায় এবং বীজ ও সার ব্যবসায়ী মো. আলী আজম।
কৃষক মাঠ দিবসে দেড় শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এসময় জিংক ধানের উপকারিতা, মানবদেহে জিংকের প্রয়োজনীয়তা, নিয়মিত জিংকসমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার সুফল এবং বিভিন্ন জিংক ধানের জাতের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. বাবুল হক ও মো. জয়ানাল আবেদীন। এছাড়া হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের “রিয়েক্টস-ইন” প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. শাহিনুল কবির, ইএসডিও’র প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মো. আশরাফুল আলম এবং প্রোগ্রাম অফিসার মো. মিজানুর রহমান।
বক্তারা জানান, দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জিংকের ঘাটতি পূরণে ব্রি ধান-১০২সহ বিভিন্ন জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কৃষকদের এসব ধানের আবাদে উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।