
জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় জিংকসমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে “জিংক ধান ব্রি ধান-১০২” শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে উপজেলার মোহাম্মদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় মাঠে এ কৃষক মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে “রিয়েক্টস-ইন” প্রজেক্টের আওতায় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও।
অনুষ্ঠানে ইএসডিও’ র কোঅর্ডিনেটর কৃষিবিদ মো. আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নিহারঞ্জ রায়, হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ শাহিনুল কবির, কৃষি উপ-সহকারী নাফিসা জামান নিপা, প্রোগ্রাম অফিসার আবু তালহা মো. শিশির, মোহাম্মদ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য মোছা. শাহিনা বেগমসহ অন্যান্য অতিথিরা।
কৃষক মাঠ দিবসে দেড় শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মানবদেহে জিংকের গুরুত্ব, জিংকের ঘাটতিজনিত সমস্যা এবং তা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২, ব্রি ধান-১০০ ও ব্রি ধান-৭৪ এর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মাঝে জিংকসমৃদ্ধ ধানের বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য ও উৎপাদন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জিংকের ঘাটতি দূর করতে এসব ধানের জাত অত্যন্ত কার্যকর। তাই কৃষকদের মধ্যে জিংকসমৃদ্ধ ধানের আবাদ সম্প্রসারণে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্য মোছা. শাহিনা বেগম, ব্যবসায়ী মো. আবু সহ অনেকে বলেন, “আমরা নিজেও জিংক ধান ব্রি ধান-৭৪ এর আবাদ করেছি। এই চালের ভাত আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত খাচ্ছি। জিংকসমৃদ্ধ ধানের ভাত খেলে পুষ্টি ও মেধা—দুটোই বৃদ্ধি পায়। তাই সবার উচিত এসব ধানের চাষ ও ভোজন বাড়ানো।”
তারা আরও বলেন, অপুষ্টি দূরীকরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও এর উপকারিতা ছড়িয়ে দিতে হবে।