
রুহুল ইসলাম মিঠু, সিলেট জেলা প্রতিনিধি : তিন দশকে হারিয়ে গেছে সিলেট নগরের প্রায় আড়াইশ’ পুকুর ও দীঘি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন ব্যবসার বিস্তার, দখল ও দূষণের কারণে সিলেট মহানগর থেকে কয়েক শ ঐতিহ্যবাহী পুকুর ও দীঘি সম্পূর্ণ ভরাট করে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
শহরের প্রতিটি মহল্লা, পাড়া কিংবা অভিজাত বাড়ির সামনে ছিল এক বা একাধিক জলাশয়। এসব পুকুর-দীঘি শুধু পানির উৎসই ছিল না, বরং নগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বৃষ্টির পানি ধারণের প্রধান অবলম্বন হিসেবে কাজ করত।
এক সময় অসংখ্য পুকুর ও দীঘির কারণে সিলেট পরিচিত ছিল ‘দীঘির শহর’ নামে সেই ঐতিহ্যের বড় অংশ এখন ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এবং স্থানীয় প্রবীণদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯০-এর দশকে সিলেট শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি পুকুর ও দীঘি ছিল। বর্তমানে সিসিকের সরকারি হিসাবে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮টিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র জরিপে টিকে থাকা পুকুর ও দীঘির সংখ্যা ৩৬টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিসিকে যুক্ত হওয়া নতুন ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে সে সংখ্যা আরও কিছু বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই হিসাব অনুযায়ী গত ৩০ বছরে সিলেট মহানগর তার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ জলাশয় হারিয়েছে। সংখ্যার হিসেবে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টিরও বেশি পুকুর ও দীঘি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ গেজেট স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিলেট সিটি করপোরেশন তথ্যমতে, সিলেট নগরের আয়তন ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিলেট নগরের ভিতরে ছড়া-খাল ও পুকুর-দীঘি নিয়ে জলাভূমির পরিমাণ ৫ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার। যা নগরের আয়তনের তুলনায় অনেক কম।
‘বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আদর্শ নগরে আয়তের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ জলাভূমি থাকা প্রয়োজন। সেই জায়গায় আয়তনের তুলনায় সিলেটে জলাভূমি রয়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।
পরিবেশবাদী নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-র সদস্য সচিব আবদুল করিম কিম বলেন, ‘গত তিন দশকে সিলেট নগর থেকে হারিয়ে গেছে বহু পুকুর-দীঘি ও জলাশয়। আশির দশকেও শহর সিলেটে জলাধারের কোন অভাব ছিল না। বিগত শতাব্দী পর্যন্ত সিলেট পৌরশহর ছিল। ২০০২ সাল থেকে শহর সিলেট নগর সিলেটে রুপান্তর হয়। সেই রুপান্তরের পর নগরে শুরু হয় অপরিকল্পিত নগরায়ণ। সবুজ টিলা ও ছড়া বেষ্টিত সিলেট নগর থেকে হারাতে থাকে একের পর এক পাহাড়-টিলা; আর পাহাড়-টিলা কাটা মাটি দিয়ে ভরাট হতে থাকে পুকুর-দীঘি-জলাশয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিলেট নগর থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় সকল জলাভূমি। নগরীর ভেতরে থাকা লামাবাজার-বিলপাড়ের মুক্তার বিলের আর অস্তিত্ব নেই। কাজল হাওরে কোন প্রাকৃতিক জলাশয় নেই। জল্লারপাড় বা চালিবন্দরের জল্লাতে জল বা জল্লা কিছুই নেই। পুকুর-দীঘি ভরাট হয়েছে অসংখ্য। সিলেট মহানগরের বর্তমান সীমা থেকে গত তিন দশকে অন্তত ৬০ শতাংশ জলাভূমি ভরাট হয়েছে। সিলেটের বহু এলাকার নাম আজও দীঘির স্মৃতি বহন করছে। লালদীঘির পাড়, সাগরদীঘির পাড়, রামের দীঘির পাড়, চারাদীঘির পাড়, মাছুদীঘির পাড় কিংবা ধোপাদীঘির পাড়-এসব নাম নগরের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করলেও বাস্তবে অধিকাংশ দীঘির অস্তিত্ব এখন আর নেই। চারাদীঘি ও রামের দীঘি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে পরিণত হয়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায়। মাছুদীঘি ও সাধুবাবুর দীঘি এখন কেবল স্মৃতিচারণে টিকে আছে। লালদীঘি ও সাগরদীঘির পাড় নগরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় রূপ নিয়েছে, যেখানে মূল জলাশয়ের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন।’
এছাড়া তালতলা দীঘি, রাজার-মার দীঘি, টিবি হাসপাতাল দীঘি এবং ভার্থখলা বড়বাড়ির পুকুরসহ অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী জলাশয় গত তিন দশকে ভরাট করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৫ সালের পর থেকে সিলেটে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে আবাসন খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে। জমির মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যক্তি-মালিকানাধীন পুকুর ও দীঘি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণকে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়।
একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, রাস্তা সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রেও বহু জলাশয়ের অংশবিশেষ কিংবা পুরো জলাধার ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবেশকর্মী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র মতে, সিলেটে বর্তমান জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ নগরের প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
একসময় ভারী বর্ষণের পানি এসব পুকুর ও দীঘিতে জমা হয়ে নগরকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করত। এখন সেই জায়গাগুলো দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরের জিন্দাবাজার, সুবিদবাজার, উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়।
সিসিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর ভেতরে বর্তমানে মোট জলাভূমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩৫৬ দশমিক ৩০ একর। এর মধ্যে পুকুর, দীঘি ও খালের আয়তন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং তথ্য অধিকার আইনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সিলেট সিটি কর্পোরেশন পুকুর ও দীঘি সংরক্ষণের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে।
নগর পরিকল্পনাবিদ মো. তানভীর রহমান মোল্লাকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সুজন, বেলা, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সচেতন নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হন।
কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জলাশয়ের প্রকৃত মালিকানা যাচাই, বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং সংরক্ষণযোগ্য পুকুর-দীঘির একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা।
কিন্তু পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, কমিটি গঠনের পরও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি গড়ে ওঠেনি। ২০২০ সালের পর প্রথম এক বছরে মাত্র একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে তালিকাভুক্ত অনেক জলাশয়ও পুনরায় দখল ও ভরাটের শিকার হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ও সংস্কারের নামে পুকুরের আয়তনই কমিয়ে ফেলা হয়েছে।
আবদুল করিম কিম বলেন, রায়নগরের সোনারপাড়া মসজিদসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি প্রথমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে পুরো জলাশয় ভরাট হয়ে যায়। সেখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার অভিযোগও ওঠে। একইভাবে কাজীদীঘি নামে পরিচিত হজরত কাজী জালাল উদ্দিন (রহ.)-এর ঐতিহাসিক দীঘির আয়তন ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে গেছে। একসময় ১১০ শতক জায়গাজুড়ে থাকা দীঘিটি বর্তমানে অনেক ছোট আকারে নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি রাস্তা প্রশস্তকরণ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের নামে বহু পুকুরের ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অংশ ভরাট করা হয়েছে।
নগরের দাড়িয়াপাড়া এলাকার প্রবীণ আবদুল মজিদ (৭৭) জানান, দাড়িয়াপাড়া ও আশপাশ এলাকায় প্রায় ৪৮টি ছোটো বড় পুকুর ছিল। এসময় তিনি আঙুলে গুণে গুণে কার কার বাসায় পুকুর ছিল তা বলতে থাকেন। কারো কারো বাসায় একাধিক পুকুর ছিল বলে জানান তিনি। এসময় তিনি বলেন, পৌরসভায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে, একমাত্র পুকুরই ছিল আমাদের পানির আধার। যুগ পাল্টালো সেই সাথে পুকুরগুলো ভরাট করে গড়ে উঠল দালানকোঠা। এখন দাড়িয়াপাড়ায় পুকুর নেই বললে চলে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ‘অনেক জলাশয়ের মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় সংরক্ষণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তেররতন এলাকার প্রায় ৮০০ বছরের পুরোনো একটি দীঘি উদ্ধার করতে গিয়ে সিসিক আইনি জটিলতার মুখে পড়ে। স্থানীয় একটি পক্ষ এটিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি দাবি করে আদালতে মামলা করে। অন্যদিকে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ জমিদার পুকুর ভরাট করে দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে হাইকোর্ট নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন।’
এদিকে, শুধু পরিবেশ নয় মৎস্য খাতেও বিশাল জলাশয় নির্ভরতার জায়গা ছিল। যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট জেলার মৎস্য খাতের তথ্য বলছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ২১ হাজার ১১১টি পুকুর, দীঘি ও বাণিজ্যিক মাছের খামার রয়েছে। এসব জলাশয়ের মোট আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৩৫৯ দশমিক ৭৮ হেক্টর।
ভূমি মন্ত্রণালয় ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ইইঝ) যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী: বাংলাদেশের মোট সরকারি পুকুরগুলোর মধ্যে ৪০.১৬ ভাগ সরকারি পুকুরই পরিত্যক্ত বা ‘মজা’ পুকুর হিসেবে চিহ্নিত, যার হার বিভাগ ওয়ারী হিসেবে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ, সিলেটে সরকারি খাস পুকুর ও দীঘি সংস্কারের অভাব সবচেয়ে স্পষ্ট।
তবে নগরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পুকুর ও দীঘির দ্রুত বিলুপ্তি পরিবেশগত ভারসাম্য ও নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র তথ্যমতে, বাংলাদেশে পুকুর, দিঘি বা জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দ-নীয় অপরাধ। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকার—কারো জন্যই অনুমতি ছাড়া জলাশয় ভরাট করার সুযোগ নেই। দেশের প্রচলিত প্রধান আইনগুলো হলো ১. প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এই আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা এর শ্রেণি পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদ- বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫। এই আইনের ৬(ঙ) ধারা অনুযায়ী, মাস্টারপ্ল্যানে জলাধার হিসেবে চিহ্নিত কোনো জায়গা ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। জলাশয় ভরাট বা নষ্ট করার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদ- বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত করার বিধান রয়েছে। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৩- এই আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোনো এলাকার জলাশয়, পুকুর, ডোবা বা প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি বা ভরাট করা যাবে না। প্রথমবার এই অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দ- হতে পারে। পরবর্তী প্রতিবার একই অপরাধের জন্য সাজা আরও বৃদ্ধি পাবে।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের নেতৃবৃন্দের মতে, শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না; অবশিষ্ট জলাশয়গুলোর ডিজিটাল ম্যাপিং, সীমানা নির্ধারণ, কঠোর আইনি সুরক্ষা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের মতে, সিলেটকে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে অবশিষ্ট পুকুর-দীঘি রক্ষা এবং বিলুপ্ত জলাধার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।
একসময় যে শহর ‘দীঘির শহর’ নামে পরিচিত ছিল, সেই সিলেট আজ জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে দাঁড়িয়ে আছে। এখন প্রশ্ন একটাই অবশিষ্ট জলাশয়গুলো কি রক্ষা করা যাবে, নাকি সেগুলোও হারিয়ে যাবে উন্নয়নের নামে?
এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জহির বিন আলম বলেন, দীঘি বা পুকুর একটা নগরের রিজার্ভার (জলাধার) হিসেবে কাজ করে। বৃষ্টির পানি পুকুরে জমা হয়ে তা ভূগর্ভে পৌঁছাবে। আমরা পুকুরগুলো ধ্বংস করছি। একটা মানব দেহ যেমন পেট বিহীন চিন্তা করা যায় না, তেমনি পুকুর ছাড়া একটি নগরও চিন্তা করা যায় না। বিশে^র সব উন্নত দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জলাভূমি বা জলাধার রয়েছে। আমরা এই পুকুর দীঘি ধ্বংস করেছি, ছড়া খাল ভরাট করেছি, যার ফলে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর থেকে উত্তরণের জন্য যেসব বেদখল হয়েছে তা পুনরুদ্ধার ও যেসব জলাধার এখনও আছে তা সংরক্ষণ ও যত্নে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে। এ জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, বর্ধিত সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় পুকুর ও দীঘির সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। নতুন যুক্ত হওয়া একেকটা ওয়ার্ডেই ১৫ থেকে ২০টি পুকুর রয়েছে। তবে এসব পুকুর-দীঘির তালিকা এখনও তৈরি করা হয়নি। তবে নগর উন্নয়ণে মাস্টারপ্লানের আওতায় তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে মাঠে টিম কাজ করছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমরা একটি তালিকা প্রণয়ন করে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাজ করবো।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদকে ফোন করা হলে তিনি পারিবারিক কাজে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।