
রাশিয়া দিবসে ঢাকায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব
কূটনৈতিক প্রতিবেদক: রাশিয়া দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত হলো বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব। রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাশিয়ার বন্ধুদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই। তিনি রাশিয়া দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন। তিনি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে সাংস্কৃতিক ও মানবিক যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
আনুষ্ঠানিক পর্বে আধুনিক রাশিয়াকে তুলে ধরে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। এতে দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের ইয়েলাবুগা কলেজ অব কালচার অ্যান্ড আর্টসের লোকসংগীত ও নৃত্যদল ‘আলাবুগা’র পরিবেশনা। রুশ ও তাতার লোকসংগীত, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং মনোমুগ্ধকর নৃত্যের মাধ্যমে দলটি রাশিয়ার বহুজাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচয় তুলে ধরে।
কনসার্টে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী রাজিল গাব্বাসভ ঐতিহ্যবাহী লোকবাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন। এছাড়া তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের সম্মানিত শিল্পী দিলইয়ারা মিরোভায়েভা বিশেষ সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে ‘হ্যাপিনেস’ নামের একটি শিশু নৃত্যদল বাংলা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করে। সোভিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সন্তানদের নিয়ে গঠিত দলটির পরিবেশনা দুই দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
বাংলাদেশে বসবাসরত রাশিয়ান স্বদেশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারা গান, কবিতা আবৃত্তি এবং জনপ্রিয় রুশ লোকসংগীত ‘করোবেইনিকি’র সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্ব উৎসর্গ করা হয় তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রকে। এ সময় অঞ্চলটির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজধানী কাজান সম্পর্কে দর্শকদের ধারণা দেওয়া হয়।
কনসার্ট শেষে অতিথিরা রাশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মেলায় অংশ নেন এবং দুটি বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। ‘মাল্টিকালচারাল রাশিয়া’ প্রদর্শনীতে দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে ‘প্রিস্টিন রাশিয়া’ প্রদর্শনীতে রাশিয়ার অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্যপ্রাণীর চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
মেলায় মাতরিয়োশকা রঙ করার কর্মশালা, রুশ ধাঁচের ফটোজোন, স্মারক সামগ্রীর প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয়সহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে রুশ সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায় এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।