
ফিরোজ মাহবুব কামাল
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে এখন এক অপরাধী বদমাইশ চক্র ক্ষমতায়। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বদমাইশদের স্বৈরশাসন। তারা জনমতের তোয়াক্কা করছে না; যা ইচ্ছে তাই করছে। প্রশ্ন হলো, বদমাইশ কাদের বলে? বদমাইশ ফার্সি শব্দ। বদমাইশ হলো তারাই, যাদের “মাইশাত” তথা জীবিকার উৎস বদ অর্থাৎ খারাপ। বদমাইশদের জীবন চলে চাঁদাবাজি, চুরি ডাকাতি, নানা রূপ দুর্বৃত্তি ও অপরাধের মধ্য দিয়ে। এ বদমাইশগণ সুযোগ পেলে ক্ষমতার লোভে দেশও বিক্রি করে দেয়। শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনা তো সেটিই করেছিল। আলামত সুস্পষ্ট, ক্ষমতাসীন বিএনপি আওয়ামী লীগের সে পথেই চলছে। আওয়ামী লীগের মত বিএনপিও চাঁদাবাজ দুর্বৃত্ত এবং এস আলমের ন্যায় ঋণখেলাফি ব্যাংক ডাকাতদের জন্য রাজনীতিতে জায়গা করে দিচ্ছে।
অপরাধী এ বদমাইশ চক্রের যুদ্ধ এখন জনগণের বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে এবং ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক ঘোষিত বাজেটে ট্যাক্স বৃদ্ধি ঘটিয়ে জনগণের পেটে লাথি মেরেছে। অপর দিকে যে সামরিক অপশক্তি ডিজিএফআই খুনি হাসিনার আমলে ইসলামপন্থীদের গুম খুন করেছে এবং ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে নির্মিত আয়না ঘরে নিয়ে নির্যাতন করেছে তারা আবার সক্রিয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক শত্রুদের ইশারায় তাদের যুদ্ধ আবার দেশের ইসলামী শক্তির বিরুদ্ধে। হাসিনার আমলে এরা যেমন War on Terror’য়ের নামে ইসলামপন্থীদের কুপিয়েছে, এখনো তাদের সে অভিন্ন নীতি। তাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশের বুকে ইসলামের উত্থানকে প্রতিহত করা।
ক্ষমতাসীন বদমাইশদের হামলার শিকার ইসলামপন্থীদের ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক, গরিব মানুষের হাসপাতাল আদ দ্বীন হাসপাতাল এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাধারীরা। গোয়েন্দা লাগানো হয়েছে ইসলামপন্থীদের আরেক প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনার বিরুদ্ধে, ষড়যন্ত্র হচ্ছে সে প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা। খুঁজে খুঁজে তারা ইসলামপন্থীদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ধ্বংসে নেমেছে। কারণ, আদ দ্বীন হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনের সিনার ন্যায় হাসপাতাল বন্ধ হলে ভারতের হাসপাতালগুলি অধিক রোগী পাবে।
দু’দিন আগে নেত্রকোনায় ধ্বংস করা হয়েছে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিসৌধকে। সেখানে জুলাই বিপ্লবের সৈনিককে জয় বাংলা বলতে বাধ্য করা হয়েছে। ২০২৪’য়ের ৫ আগস্টে সে পরাজতি ফ্যাসিস্ট শক্তি প্রাণ বাঁচাতে গর্তে ঢুকেছিল তারা আবার গর্ত থেকে বেরিয়া আসার চেষ্টা করছে। অপরদিকে বিএনপি জুলাই সনদের পক্ষে জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি’র এই জুলাই বিপ্লব বিরোধী অবস্থান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ময়দানে ফিরে আসতে উৎসাহ জোগাচ্ছে।
এদিকে নব নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশকে ভারতভুক্ত করার স্বপ্ন জাহির করেছে। তার স্বপ্ন বাংলাদেশকে ভারত ভুক্ত করে ১৬০ কোটি জনসংখ্যার ভারতকে বিশ্বশক্তি বানানো। লক্ষণীয় হলো, ভারতীয় দূতের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে তারেক জিয়ার সরকার কোন প্রতিবাদ জানায়নি। এ থেকে বুঝা যায় এ সরকার ভারতের প্রতি কতটা নতজানু। এদিকে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা জুলাই বিপ্লবের সৈনিকদের উপর দৈহিক হামলা করছে।
বুঝতে হবে বর্তমান সরকারের শুধু জুলাই বিপ্লব হাইজ্যাক হয়নি; হাইজ্যাক হওয়ার পথে দেশের স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা -উভয়ই আজ সংকটের মুখে। দেশের এই দুর্যোগ সময়ে নিরবে নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকাটা গুরুতর অপরাধ। এদেশ বাংলাদেশীদের সবার; ফলে দেশ বাঁচানোর দায়িত্বও সবার। নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকলে বিপদটি দেশের স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লব হারানোর। জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একতাবদ্ধ। আওয়ামী লীগ দেড় হাজার জুলাই যোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং ২২ হাজারকে আহত করেছে। আর বিএনপি জুলাই সনদের পক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই উভয়ের লক্ষ্য, জুলাই বিপ্লবকে বিফল করা। তাই এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ের সময়। যার যা সামর্থ্য আছে এই ক্ষমতাসীন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হবে। বাঙালি মুসলিমের জন্য এটিই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধ ভারত ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে। এ যুদ্ধে বিজয়ী না হলে স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবের অর্জন হারাতে হবে।
বুঝতে হবে, দুর্বৃত্তদের ক্ষমতায় বসিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা দেয়া যায়না। স্মরণে রাখতে হবে, বিএনপি কোন সৎ মানুষের দল নয়। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি বাংলাদেশকে পর পর ৪ বার দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে প্রথম করেছে। সে সময়ের হাওয়া ভবনের খাম্বা তারেক এখন ক্ষমতায়। মনে রাখতে হবে, বিএনপি একটুও বদলায়নি। সেটি বুঝা দলটির চাঁদাবাজী, দুর্নীতি ও ব্যাংক দখলের রাজনীতি থেকে। বুঝা যায় জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান থেকে। তাই জুলাই বিপ্লব ও দেশের স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে ক্ষমতাসীন বদমাইশ সরকারের পতন ঘটাতেই হবে। আরেকটি বিপ্লব সংঘটিত করতে হবে। সেটি হতে হবে জনগণের বিপ্লব। সেটি হবে দেশ বাঁচানো এবং চাঁদাবাজ দুর্বৃত্তদের নির্মূলের বিপ্লব। ব্যর্থ হলে ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে। তখন বিপন্ন শুধু জুলাই বিপ্লব নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতাও। ১৪/০৬/২০২৬