
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। সাম্প্রতিক ফর্ম, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং দুই দলের ফুটবল দর্শনের কারণে ম্যাচটিকে ইতোমধ্যেই ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে তাদের আক্রমণভাগ ছিল প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। ছয় ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শীর্ষ সারিতে রয়েছেন এমবাপ্পে। তার সঙ্গে আক্রমণে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ডিজায়ার দুয়ে।
অন্যদিকে, কেপভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হোঁচট কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বল দখলভিত্তিক ফুটবল, পরিকল্পিত আক্রমণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলগত পারফরম্যান্সে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে লা রোজারা।
খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ফ্রান্স দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে অভ্যস্ত, আর স্পেন ধৈর্যের সঙ্গে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করে আক্রমণ সাজায়। ফলে দুই ভিন্ন দর্শনের ফুটবলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে স্পেন। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগে ৫-৪ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ের আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮ দেখায় স্পেন জিতেছে ১৮টি ম্যাচ, ফ্রান্সের জয় ১৩টিতে, আর সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ ছিল ২০০৬ সালের আসরে। সেবার শেষ ষোলোতে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ফ্রান্স। সেই স্মৃতি এবারও লে ব্লুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
২০১৮ বিশ্বকাপের পর বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতাও চোখে পড়ার মতো। ২৭ ম্যাচে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে, জিতেছে ১৬টি এবং ড্র করেছে ১০টি। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্প্যানিশরা। এই সময়ে মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে তারা এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি। নয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করার সুযোগই দেয়নি স্পেনের রক্ষণভাগ।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এমন কীর্তি গড়তে পেরেছিল কেবল ব্রাজিল ও জার্মানি।
পরিসংখ্যান বলছে স্পেনের পক্ষে, আর বিশ্বকাপের স্মৃতি ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা ফ্রান্সের শক্তি। ডালাসের সেমিফাইনালে তাই দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি পুরোনো অধ্যায়ই নতুন করে লেখা হবে—সেই উত্তর মিলবে আজ রাতেই।