
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কওমী স্টুডেন্ট ফোরাম আয়োজিত এক সেমিনারে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) বিকেলে সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভারতের শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজের পরিচালক খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী।
এশিয়াটিক সোসাইটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের সহ-আয়োজক ছিল ইন্টেগ্রেটেড মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি এবং পয়া মেইন সানিয়া বাংলাদেশ।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুফতী মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী শিক্ষাবিদদের পারস্পরিক ঘৃণা পরিহার করে একে অপরের সঙ্গে সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসবে এবং সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথি সাজ্জাদ নোমানী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন শুরু করেছেন ‘ইকরা’ শব্দের মাধ্যমে। তিনি সৃষ্টিকর্তার নামে, প্রতিপালকের নামে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে তাওহিদের আলোচনা দিয়ে সূচনা করা হয়নি। তিনি বলেন, শিক্ষা মূলত দুই ধরনের—একটি হলো সৃষ্টিজগৎ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত শিক্ষা, অন্যটি কুরআন, হাদিস ও অন্যান্য ইসলামি গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে অর্জিত শিক্ষা। বিজ্ঞান সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে, এটিও শিক্ষা।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত অর্থে সব উপকারী জ্ঞানই দ্বীনের অংশ। তাই ‘জেনারেল শিক্ষা’ ও ‘দ্বীনি শিক্ষা’ নামে শিক্ষাকে বিভক্ত করার সুযোগ নেই। তবে শিক্ষা ‘উপকারী’ ও ‘ক্ষতিকর’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে। তাঁর মতে, পাশ্চাত্য বিশ্ব শিক্ষাকে বিভাজিত করেছে, আর মুসলিম বিশ্বকে এ বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি ইসলামের স্বর্ণযুগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পেনে মুসলিম শাসনামলে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে মুসলমানদের উৎকর্ষের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামের আলোচনা এলে অনেকেই তাঁদের কেবল সাধারণ ও সাদাসিধে মানুষ হিসেবে কল্পনা করেন। অথচ তাঁদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, সমরবিদ, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসাবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পদার্থবিজ্ঞানীও ছিলেন। তিনি সমাজের দায়িত্ব গ্রহণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমাশীলতার গুণ ধারণ করে সবাইকে আপন করে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বক্তব্য শেষে তিনি উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ অধ্যয়নের পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি মনজুর নোমানী, আবুল হাসান আলী নদভী ও সোলায়মান নদভীসহ কয়েকজন বিশিষ্ট আলেমের রচিত কিছু গ্রন্থের একটি পাঠতালিকাও উপস্থাপন করেন।
অনলাইনে গোপন গুনাহ থেকে আত্মরক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। তিনি বলেন, “কেউ মসজিদে যাওয়ার নিয়ত করে ভুল করে সিনেমা হলে পৌঁছে যায় না। আবার সিনেমা হলে যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে কেউ মসজিদেও পৌঁছে যায় না। মানুষের ইচ্ছাই তাকে তার গন্তব্যে নিয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “অনেকে প্রবৃত্তির তাড়নায় গোপনে গুনাহ করে ফেলে। কিন্তু প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কি কেউ গোপনে বিষ পান করে? যদি না করে, তাহলে গোপনে গুনাহ কেন করবে?”
প্রধান অতিথি বাংলাদেশের ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, চারদিক থেকে আজানের ধ্বনি শুনে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।
বুয়েট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন মাদরাসা এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন মো. সাইফুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান মুনীর নদভী, মাওলানা শহিদুল ইসলাম ফারুকী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, নূরে আলম নদভী, মাওলানা কাজী ওয়াসিফ আমীন এবং মাওলানা রাশেদুর রহমান প্রমুখ।