
এম এম রহমাতুল্লাহ: দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাব এবং কমপ্লায়েন্স থেকে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণে উত্তরণের বার্তা নিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতা, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়নকর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে টেকসই ব্যবসাকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে শনিবার অনুষ্ঠিত সামিটের চতুর্থ আসরের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ। বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে আকিজ বশির গ্রুপ ছিল উপস্থাপক, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) ছিল পরিচালনায় এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও বিজিএমইএ সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।
দিনব্যাপী সম্মেলনে ৩টি কী-নোট সেশন, ২টি প্যানেল আলোচনা, ৩টি ইনসাইট সেশন, ২টি কেস স্টাডি, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ এবং একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় উঠে আসে—টেকসইতা এখন আর করপোরেট দায়বদ্ধতার আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়; বরং এটি ব্যবসায়িক কৌশল, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ যখন ২০৩০ সালের এসডিজি অর্জন এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন দায়িত্বশীল ব্যবসা কোনো বিকল্প নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার পূর্বশর্ত। তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাব সৃষ্টির দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ‘বাংলাদেশের সবুজ রূপান্তরে টেকসই অর্থায়ন’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভার্চুয়াল কী-নোট সেশনে অংশ নিয়ে বিশ্বখ্যাত বিপণন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফিলিপ কটলার এবং কানাডার রেসইন্ট সাসটেইনেবিলিটি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খালিদ হাসান উদ্দেশ্যনির্ভর ব্যবসায়িক মডেল এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টিতে ব্র্যান্ডের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ড. শ্রামন ঝা বলেন, টেকসইতা এখন ব্যবসার প্রান্তিক ইস্যু নয়; এটি প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু।
সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ইএসজি (পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন) রিপোর্টিং, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে শক্তিশালী টেকসই কাঠামো, দায়িত্বশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে দায়িত্বশীল ব্যবসার বৈশ্বিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এতে এম মাসরুর রিয়াজ, ড. মেলিতা মেহজাবীন, মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, সায়েফ নাসির, ইয়াসির আজমান, সাব্বির হাসান নাসির, বিদ্যা অমৃত খান, মোহাম্মদ জাহিদুল্লাহ, নুজহাত আনোয়ার, কে এ এম মোরশেদ এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবীসহ দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।
সমাপনী পলিসি ডায়ালগে বক্তারা একমত হন, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ এখন আর কেবল নৈতিক অঙ্গীকার নয়; বরং ভবিষ্যৎ ব্যবসা ও বিনিয়োগের অপরিহার্য শর্ত।
দিনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হবে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস গালা, যেখানে পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিমাপযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
সামিটে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।