
ফিরোজ মাহবুব কামাল
উম্মাহর মূল ব্যর্থতাটি ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে
মুসলিম উম্মাহর যে ব্যর্থতাটি তাদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে -সেটি হলো ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ব্যর্থতা। অথচ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে আগ্রহ থাকলে তা আজও নির্মিত হতে পারতো। কারণ সেটি কোন রকেট সায়েন্স নয়। সে জন্য প্রয়োজন শুধু কিছু মোখলেছ ঈমানরদার ্ বান্দা ও ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের রোডম্যাপ ও স্ট্রাটেজি। অথচ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের রোডম্যাপ ও স্ট্র্যাটিজি নতুন করে আবিস্কারের বিষয় নয়; সেগুলিও বেঁচে আছে ইতিহাসের বইয়ে ও হাদীস গ্রন্থে। অতীতে সে রোডম্যাপ ও স্ট্র্যাটিজির সফল ভাবে প্রয়োগ হয়েছে; ফলে তাতে ইসলামী রাষ্ট্রও সফল ভাবে নির্মিত হয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে আগ্রহ থাকলে তা থেকে অবশ্যই শিক্ষা নেয়া যেত। মুসলিমদের আজকের ব্যর্থতার মূল কারণ, তা থেকে শিক্ষা নেয়া এবং সে শিক্ষার প্রয়োগের কাজটি হয়নি। অথচ নবীজী (সা:) শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত, ওজু-গোছল ও তাসবিহ তাহলিল শিখিয়ে যাননি, তিন নিজ হাতে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করেছেন এবং ১০টি বছর সে রাষ্ট্রের চালকের সিটে বসে দেখিয়ে গেছেন কিরূপে সে রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হয় এবং সেটি পরিচালনা করতে হয়। এবং নিজে রণাঙ্গণে নেমে দেখিয়ে গেছেন কিরূপে সে রাষ্ট্রের নির্মাণে ও প্রতিরক্ষায় অংশ নিতে হয়। এবং এটিই হলো নবীজী (সা:)‘য়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূন্নত। অতীতে মুসলিমগণ স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইজ্জত পেয়েছে সে সূন্নত অনুসরণের কারণে, টুপি, দাড়ি, পাগড়ির কারণে নয়।
ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণের শুরুটি হতে হয় জনগণের চেতনার নির্মাণ দিয়ে। শুরুর এ কাজটি শুরুতে না হলে রাষ্ট্র নির্মাণের পরবর্তী ধাপগুলি ব্যর্থ হতে বাধ্য। শুরুর সে কাজটি না হওয়াতে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের বিপুল প্রাণের বিণিময়ে অর্জিত পাকিস্তান প্রকল্প ব্যর্থ হয়ে গেছে। মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ সে রাষ্ট্রটি শয়তানের জাতীয়তাবাদী, সেক্যুলারিস্ট, কম্যুনিস্ট ও হিন্দুত্ববাদী খলিফাদের নাশকতায় খণ্ডিত হয়ে গেছে। এবং শত্রুর সে সফল নাশকতা নিয়ে বাঙালি মুসলিমগণ ভারতীয় পৌত্তলিকদের সাথে মিলে এখনো প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ এলে উৎসব করে। ঈমানদার মানুষ প্রতিবেশীর ঘর ভাঙলে দুঃখ পায়; তা নিয়ে কখনো উৎসব করে না। আর বাঙালি মুসলিমগণ নিজেদের দেশ ভাঙা নিয়ে ভারতীয় কাফিরদের সাথে মিলে উৎসব করে। এ থেকে বু|ঝা যায় বাঙালি মুসলিম চেতনার পচন কত গভীর। চেতনার এমন পচন নিয়ে দুর্বৃত্তিতে বিশ্বের মঞ্চে ৫ বার প্রথম হওয়া যায়, কিন্তু সভ্য ও উন্নত রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি হয়না। তাই বাংলার বুকে বার বার ভাঙার কাজ হলেও গড়ার কাজ হচ্ছে না। কারণ, গড়ার কাজে দরকার সুস্থ চেতনার নির্মাণ। বাঙালি মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি এক্ষেত্রে।
বাংলার বুকে ইসলামের আগমন হাজার বছর আগে হলেও চেতনা নির্মাণের কাজটি কোন কালেই হয়নি। সে কাজের শুরুটি হতে হয়, কুর’আনী জ্ঞানার্জনকে প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ ইবাদতে পরিণত করে এবং রাষ্ট্র জুড়ে সে জ্ঞানের বিস্তার ঘটিয়ে -যেমনটি নবীজী (সা:) করেছিলেন। সেটি করেছিলেন নামাজ রোজা ফরজ করার আগে। কুর’আনের শুরুটি তাই ইকরা তথা পাঠ করো দিয়ে। অথচ বাংলাদেশে সে কাজটি কখনোই হয়নি। ফলে চেতনা নির্মাণের গোড়াতেই রয়ে গেছে বিশাল গলদ। ফলে এ দেশে হাজার জনের মধ্যে একজন পাওয়া যাবে না যে কুর’আন পড়লে তা বুঝে। আর যারা কুর’আন বুঝে না তারা সে কুর’আন অনুসরণ করবে কিরূপে? ফলে বিগত হাজার বছরের মুসলিম ইতিহাসে এ ভূ-খণ্ডে কখনোই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হয়নি। অথচ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি সফল না হলে ইসলামের শ্রেষ্ঠ নেয়ামতগুলি পার্থিব জীবনে জুটবে কিরূপে? অথচ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হলে সে রাষ্ট্রটি জান্নাতের বাহনে পরিণত হয়। ইসলামী রাষ্ট্রের এটিই হলো সবচেয়ে বড় নেয়ামত।
ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের শুরুটি অজ্ঞতা নির্মূলের জিহাদ দিয়ে
ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি একমাত্র ঈমানদারদের। যারা প্রকৃত ঈমানদার, একমাত্র তারাই যোগ্যতা রাখে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে অবদান রাখার। একাজ কখনোই ইসলাম থেকে দূরে সরা দুর্বৃত্ত মুনাফিকদের নয়। তাই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ সফল করতে হলে শুরুতেই কার্যকর প্রকল্প থাকতে হয় ঈমানদার মানব গড়ার। একাজে নবীজী (সা:) নিজে ছিলেন একজন ভ্রাম্যমান শিক্ষক। মহল্লায় ঘুরে ঘুরে তিনি ওহীর জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। ঈমানদার মানব সৃষ্টির কাজে মূল হাতিয়ারটি হলো পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান। সে জন্য শুধু তেলাওয়াতের সামর্থ্য থাকলে চলেনা, থাকতে হয় বুঝার সামর্থ্য। কারণ, ব্যক্তির ঈমান পুষ্টি পায় কুর’আনী জ্ঞান থেকে। যেমন মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই কেবল ডাক্তার হয়, তেমনি কুর’আনী জ্ঞানে সমৃদ্ধ ব্যক্তিরাই কেবল প্রকৃত ঈমানদার হয় এবং ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের সৈনিক হয়।
ঈমানদারের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধটি হলো চেতনার ভূবনে বাসা বাঁধা জাহিলিয়াত নির্মূলের জিহাদ। এ জিহাদ ব্যক্তির জীবনে নৈতিক বিপ্লব আনে এবং তাকে এক নতুন জীবন উপহার দেয়। পবিত্র কুর’আনের সুরা ফুরকানের ৫২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা এ জিহাদকে জিহাদে কবিরা তথা বড় জিহাদ বলেছেন। এ জিহাদ বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লবের। সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শুরুটি এ বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব দিয়ে হতে হয়। এ বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে মূল অস্ত্র হলো পবিত্র কুর’আন। এজন্য সর্বজ্ঞানী মহান রব ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও মাহে রমজানের মাসব্যাপী রোজা ফরজ করার আগে কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। শুরুতে এ জিহাদটি না হলে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ কখনো সফল হয়না। বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব আনায় ব্যর্থ হওয়াতে বহু দেশে ইসলামের নামে শুরু করা বহু বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে গেছে।
ইসলামী রাষ্ট্রই হলো মুসলিম উম্মাহর মূল দুর্গ
ইসলামী রাষ্ট্রই হলো মুসলিম উম্মাহর মূল দুর্গ। সে দুর্গের পতন হলে বা সেটি বিলুপ্ত হলে উম্মাহর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইজ্জত বাঁচেনা। তখন বড় বড় নগর, প্রাসাদ ও কলকারখানা নির্মাণ করেও স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বাঁচানো যায় না। বরং গোলাম হতে হয় শত্রু শক্তির। আজকের মুসলিম উম্মাহ তারই উদাহরণ। এজন্যই নবীজী (সা:) মদিনায় হিজরত করে নিজের ঘর নির্মাণ করেননি, বরং ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করেছিলেন। পরিতাপের বিষয় হলো, নবীজী (সা:)‘যের কাছে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ যেরূপ অগ্রাধিকার ও গুরুত্ব পেয়েছিল, সেরূপ অগ্রাধিকার ও গুরুত্ব আজকের মুসলিমদের কাছে পায়নি। অভাব এখানে ভূ-রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রায়োরিটির। নবীজী (সা:) কোন রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ছিলেন না; কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি যা কিছু করেছেন তার সব কিছুই করেছেন সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে। ফলে নবীজী (সা:)‘য়ের ভূ-রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রায়োরিটির চেয়ে উত্তম প্রজ্ঞা ও প্রায়োরিটি আর কি হতে পারে? সেটির প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞা দেখানোর অর্থ মহান আল্লাহর প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞা দেখানো। সেটি তো কবিরা গুনাহ। অথচ আজকের মুসলিমরা সে গুনাহতে লিপ্ত। নবীজী (সা:)‘য়ের সে মহান সূন্নত থেকে আজকের মুসলিমগণ কোন শিক্ষাই নেয়নি। ফলে মুসলিম বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই সে দুর্গ। বস্তুত এটিই হলো মুসলিমদের আজকের সকল ব্যর্থতার মূল কারণ।
প্রশ্ন হলো, নবীজী (সা:)’য়ের দেখানো রোডম্যাপকে পাশ কাটিয়ে বা সেটিকে অনুসরণ না করে নিরাপত্তা, বিজয় ও ইজ্জত জুটবে -সেটি কি কখনো আশা করা যায়? মুসলিমদের অপরাধ, নবীজী (সা:) থেকে তারা নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের পদ্ধতি শিখলেও শেখেনি ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ ও পরিচালনার কৌশলটি। নবীজী (সা:) শুধু কুর’আনের বাণী বাহক ছিলেন না; তাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য অনুকরণীয় সর্বশ্রেষ্ঠ মডেল চরিত্র রূপে। তাকে অনুসরণ করার অর্থ মহান আল্লাহ তায়ালার অনুসরণ -সেটি বলা হয়েছে সুরা নিসার ৮০ নম্বর আয়াতে। তাই নবীজী (সা:)’য়ের অবাধ্যতার অর্থ মহান আল্লাহর অবাধ্যতা। এ অবাধ্যতা ব্যক্তিকে কাফির বানায়। অথচ মুসলিমদের মাঝে সে অবাধ্যতাই প্রকট ভাবে দৃশ্যমান হয় ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে অবহেলা ও অবজ্ঞার মধ্য দিয়ে। তারা ইসলামী রাষ্ট্রনির্মাণের কথাটিই মুখে আনে না। তারা গুরুত্ব দেয় স্রেফ মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণে। ফলে বহু লক্ষ মসজিদ নির্মাণ করলেও কোন ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করেনি। ফলে কোথাও প্রতিষ্ঠা দেয়নি আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের বদলে তারা নির্মাণ করছে জাতীয়তাবাদী ট্রাইবাল, রাজতন্ত্রী ও সেক্যুলার রাষ্ট্র। কিন্তু তাতে মুসলিমদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বাড়েনি। মুসলিম দেশে বিপুল সংখ্যায় মসজিদ মাদ্রাসা নির্মিত হলেও দেশগুলিতে বিজয় বেড়েছে সেক্যুলারিস্ট, জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট ও রাজতান্ত্রিক শত্রু শক্তির। এভাবে বনি ইসরাইলীদের মত আজকের মুসলিমগণও নিজেদের প্রমাণ করেছে ইসলামের ব্যর্থ ছাত্র রূপে।
অসম্ভব হয়েছে পূর্ণ ইসলাম পালন
আজকের অধিকাংশ মুসলিম যে মৌল বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে তা হলো, ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত না হলে অসম্ভব হয় পূর্ণ ইসলাম পালনের কাজ তথা পূর্ণ মুসলিম রূপে বাঁচার কাজ। তখন অসম্ভব হয় ইসলাম ও তার শরিয়াকে বিজয়ী করা। তখন মুসলিম ভূমিতে মুসলিমগণ ইতিহাস গড়ে ইসলাম থেকে দূরে সরায়। ইসলামী রাষ্ট্র না থাকায় ফল হলো, মুসলিমদের জীবনে ইসলামের পূর্ণ পালন নাই। তারা বাঁচছে শরিয়া আইন, প্যান-ইসলামী ঐক্য, দুর্বৃত্ত নির্মূলের জিহাদ, শুরা ভিত্তিক শাসন, সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার ন্যায় ফরজ কাজগুলি নিত্য দিনের জীবন থেকে বাদ দিয়ে। বরং মুসলিম নগরে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে পতিতাপল্লীর নামের জ্বিনার বাণিজ্য, সূদী ব্যাংক, জুয়ার আখড়া, মদের দোকান এবং নাচ গান ও সিনেমার নামে অশ্লিলতা। বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা ১৫০ কোটির অধিক হলেও তাদের হাতে পৃথিবীর কোথাও ইসলামের বিজয় আসেনি। অথচ বড় বড় বিজয় এসেছিল নবীজী (সা:) ও তাঁর কয়েক হাজার সাহাবীদের হাতে। লক্ষণীয় হলো, সে আমলে বিজয় অর্জনে মূল হাতিয়ার রূপে কাজ করেছিল ইসলামী রাষ্ট্র ও তার বিশাল সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো। আজ সেরূপ রাষ্ট্র না থাকায় কোন বিজয় জুটছে না।
ইসলামের বিজয়ের অর্থ: রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলিম হবে -সেটি নয়। মুসলিম নামধারি কোন শাসকের শাসনও নয়। সে রাষ্ট্রে বহু লক্ষ মসজিদ বা বহু হাজার মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা পাবে -সেটিও নয়। বরং সেটি হলো সে রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা পাবে মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব এবং তাঁর শরিয়া আইন। ইসলামের বিজয় এলে সে রাষ্ট্রে বিলুপ্তি ঘটে সর্বপ্রকার দুর্বৃত্তি ও অবিচারের এবং প্রতিষ্ঠা পায় সত্য ও সুবিচারের। নবীজী (সা:)’য়ের বিস্ময়কর মোজেজা শুধু এ নয়, নিরক্ষর হয়েও তিনি হৃদয়ে নির্ভুল ভাবে ধারণ করতে পেরেছিলন পবিত্র কুর’আনের ন্যায় বিশাল গ্রন্থকে। নবীজী (সা:)’য়ের সবচেয়ে বড় মোজেজাটি হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। নবীজী (সা:) নবুয়ত পান ৪০ বছর বয়সে এবং নবুয়ত প্রাপ্তির পর মাত্র ২৩ বছর তিনি বেঁচেছেন। সে ২৩ বছরের মাঝে প্রথম ১৩ বছর চরম বাধা-বিপত্তির মাঝে কেটেছে মক্কায়। তাঁর জীবন থেকে তিনটি মূল্যবান বছর হারিয়ে গেছে শেবে আবু তালেবের বন্দী জীবনে। মক্কায় অবস্থানকালে তিনি তাঁর সামর্থ্যকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি। তিনি তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজটি করেন মদিনায় হিজরতের পর মাত্র ১০ বছরের মধ্যে। এ স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি সাহাবাদের গড়ে তোলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রূপে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র বেড়ে উঠে এ পৃথিবী পৃষ্ঠের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র ও সবচেয়ে শক্তিশালী বিশ্বশক্তি রূপে। অবশেষে সে রাষ্ট্রের উপর প্রতিষ্ঠা পায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা।
বড় বড় শত্রুশক্তির বিরুদ্ধে নবীজী (সা:) বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু সে বিজয় বিনা যুদ্ধে আসেনি। মাত্র ১০ বছরের শাসনামলে তাঁকে ৮৩টি যুদ্ধ লড়তে হয়েছে। শুধু নবীজী (সা:)কে নয়, প্রতিটি সাহাবাকে যুদ্ধে নামতে হয়েছে। অর্ধেকের বেশি সাহাবা শহীদ হয়েছেন; এবং খোদ নবীজী (সা:) রণাঙ্গণে আহত হয়েছেন। যারা যুদ্ধে নামেনি তাদেরকে মুনাফিক বলা হয়েছে। সেদিন এটি প্রমাণিত হয়েছিল, নামাজী, রোজাদার ও হাজীদের মাঝে শুধু মুজাহিদ থাকে না, বিপুল সংখ্যক মুনাফিকও থাকে। কিন্তু নবীজী (সা:) কিরূপে সেদিন কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হলেন এবং কি ছিল তাঁর স্ট্র্যটিজি -সেটি হলো মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয়।
বুঝতে হবে নবীজী (সা:) যা কিছু করেছিলেন -সেগুলি করেছেন মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা ও নির্দেশ মোতাবেক। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা ও স্ট্র্যাটেজিকে কার্যে পরিণত করেছেন মাত্র। কিন্তু আজকের মুসলিমদের পরাজয়ের মূল কারণ, তারা নবীজী (সা:)‘য়ের সে পথে নাই। তারা নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের হুকুমগুলি মানতে রাজী, কিন্তু মানতে রাজী নয় ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে তাঁর সূন্নতকে। তারা বাঁচছে নবীজী (সা:)‘য়ের বিরুদ্ধে অবাধ্যতা নিয়ে। আর নবীজী (সা:)‘য়ের অবাধ্যতার অর্থ মহান আল্লাহর অবাধ্যতা। ইসলামের ব্যর্থ ও অবাধ্য ছাত্র রূপে ইহুদিরা যেমন ইতিহাস গড়েছিল, সে পথটি বেছে নিয়েছে আজকের মুসলিমগণও। ২১/০৭/২০২৬