
নিজস্ব প্রতিবেদক: মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলটির শীর্ষ নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি ও ছাত্রদলের একদল সন্ত্রাসীর কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে যে নতুন গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেখানে যেকোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের উগ্র ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি এবং জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “এ ধরনের সহিংসতা এবারই প্রথম নয়। প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী মতের মানুষের ওপর হামলা, মব সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। এর আগে ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এছাড়া সাভারে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করা হয়। একের পর এক এসব রাজনৈতিক হামলা প্রমাণ করে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে পুনরায় অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চায়।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর বেপরোয়া আচরণ ও দখলদারিত্বের মানসিকতা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, হামলা-মামলা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে তারা যেভাবে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে, তা চরম উদ্বেগজনক। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী।”
নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এ হামলায় জড়িত এবং পূর্বের সহিংসতায় লিপ্ত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে দলীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।