
পুনর্গঠন দিবসের আলোচনায় জাতীয় ঐক্য ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক: উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন, আদর্শবাদী ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৫১তম পুনর্গঠন দিবস উপলক্ষে শনিবার ৮ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। "জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রেক্ষাপটে মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অপরিহার্যতা" শীর্ষক এই আলোচনা সভায় দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। প্রধান আলোচক ছিলেন দলের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের।
সভায় বক্তারা দেশ ও জাতির পুনর্গঠনে ফ্যাসিস্ট বিরোধী এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব শক্তিকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সহযোগিতা এবং "জুলাই সনদ" দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি দাবি তোলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরে জাতির অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা অংকুরেই বিনষ্ট হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেই দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পরে তা আবার ধূলিসাৎ হয়। সবার অংশগ্রহণ ও ত্যাগের বিনিময়েই ফ্যাসিবাদকে বিদায় করে চূড়ান্তভাবে দেশে বিজয় অর্জিত হয়।"
প্রধান আলোচক খান এ সবুরের রাজনৈতিক সহচর, বহু ইতিহাসের সাক্ষী, প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাজী আবুল খায়ের বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকল্প নেই। তিনি দাবি করেন, "আওয়ামী লীগ ভারতের নির্দেশে তৈরি একটি দল। দিল্লির প্রেসক্রিপশনে মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং পরে আওয়ামী লীগ নামক সেকুলার দলটির প্রতিষ্ঠা হয়।"
১৯৭৬ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশ মুসলিম লীগের পুনর্গঠনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, "১৯৭৬ সালের ৪ আগস্ট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্তের পর মাত্র ৪ দিনের মাথায় জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী পার্টি ও ন্যাপসহ বিভিন্ন দলের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের পুনর্গঠন করা হয়।"
সম্প্রতি ভারতের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে মুসলিম লীগ মহাসচিব বলেন, "স্বাধীনতার পর গত ৫ আগস্ট এই প্রথম ভারতকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।"
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, "মুসলিম লীগ অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এই পর্যায়ে এসেছে। সবাই এ দল করতে পারে না। মুসলিম লীগ করতে হলে পকেটের অর্থ খরচ করতে হয়।"
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি সৈয়দ ফখরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আশরাফুল ইসলাম আকন এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, তা বাস্তবায়নে আদর্শিক রাজনীতি এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।