
শামীম রহমান, রাজশাহী ব্যুরো: আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মানঃ জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষায় তাদের অবদান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সমাবেশ, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়।
উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি সুমী মুর্মু। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আদিবাসী নারী, পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুমী মুর্মু বলেন, আদিবাসীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভূমির অধিকার ও নাগরিক মর্যাদার স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্র ও সমাজকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি সংবিধানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা আদিবাসীদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি দখল বন্ধে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আদিবাসী শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করা।
এ ছাড়া শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে আদিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা বহাল রাখার দাবিও জানান বক্তারা।
আলোচনা সভা শেষে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে আদিবাসী নারী-পুরুষ ও শিশুরা নৃত্যের তালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিটি সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর ফায়ার সার্ভিসের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘সংবিধানে আদিবাসী পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে’, ‘সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে’ এবং ‘শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা বহাল করতে হবে’—এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
সমাবেশ ও র্যালিতে রাজশাহীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।