
শামীম রহমান, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর পবা উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় অব্যয়িত ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বুধবার এ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পবার পারিলা ইউনিয়নে ‘বৈরাগীর খাল’ পুনঃখনন প্রকল্প নেওয়া হয়।
জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনঃখননের জন্য প্রকল্পে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৬ টাকা।
তবে চলমান বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে খালে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ায় খননকাজ ব্যাহত হয়। ফলে প্রায় এক কিলোমিটার খননের পর কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় অব্যয়িত অর্থ খরচ না করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পে যতটুকু কাজ হয়েছে, কেবল ততটুকু কাজের বিপরীতে অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে।
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। তাই এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বৃষ্টির কারণে যে কাজ করা সম্ভব হয়নি, সেই কাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এ উদ্যোগ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন কাজের পরিমাণ অনুযায়ীই অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের অবশিষ্ট ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা নির্ধারিত সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এমন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, কোনো প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত কারণে অসম্পূর্ণ থাকলে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।