
দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের নাভিশ্বাস: নূরুল ইসলাম বুলবুল
নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে গেছে।”
সরকার জনদুর্ভোগ কমানোর পরিবর্তে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বুলবুল বলেন, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হচ্ছে কিংবা গ্রামের দীর্ঘ পুল ভেঙে যাওয়ায় তা মেরামতে সময় লাগার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে—এ ধরনের বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশার শামিল।
তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বা স্বল্পমেয়াদি কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে দৃশ্যমান নয়। অবিলম্বে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‘জনগণের দাবি সংসদ ও রাজপথে’
গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। একইভাবে বিদ্যমান জনদুর্ভোগকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের জঞ্জাল হিসেবে দেখিয়ে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের লড়াই সংসদের পাশাপাশি সংসদের বাইরেও চালিয়ে যেতে হবে। সরকার যদি গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে গ্রহণ করে এবং জনগণের ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করবে।
তবে সরকার ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগের কথিত “ফ্যাসিবাদী পথেই” হাঁটতে থাকলে জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথেই সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লংমার্চ ঘিরে প্রস্তুতির আহ্বান
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বুলবুল। কর্মসূচিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে যথাযথ ভূমিকা পালনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রস্তুতি সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি ও ড. আব্দুল মান্নানসহ কেন্দ্র ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, আব্দুস সালাম, শেখ শরিফ উদ্দিন আহমদ, ড. মোবারক হোসাইন, আব্দুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা সভায় অংশ নেন।
সভায় মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন ও সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেক্ষাপট
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের এই প্রস্তুতি সভায় মূলত দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি। দলের পক্ষ থেকে এসব দাবিকে সামনে রেখে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে বুলবুলের আহ্বানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদারের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।