
জাকির ফরাজী, পিরোজপুর: সরকারি নীতিমালায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পিরোজপুরে কয়েকটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ বিভিন্ন স্থানে গোপনে কোচিং পরিচালনা করছেন। এতে সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’-এর ৩ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না।
নীতিমালায় এমন স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পিরোজপুরের কয়েকটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কোচিং করানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট শিক্ষকের কাছে কোচিং না করলে শিক্ষার্থীদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, অবহেলা কিংবা বৈষম্যের শিকার হতে হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।
সচেতন অভিভাবকদের প্রশ্ন, সরকারি নীতিমালা যদি বাস্তবায়নই না হয়, তাহলে তা প্রণয়নের উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে? তাদের মতে, বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কোচিংনির্ভরতা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী কোচিং না করলেও বিদ্যালয়ে তার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক। ফলে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে কোচিং করানোর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এখন প্রশ্ন হলো, নীতিমালার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। অভিভাবকদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য কোচিংনির্ভরতার বাইরে একটি স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।