
সাইফুল ইসলাম সুমন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক। এই মহাসড়কে প্রতিদিন ছুটে চলে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ দ্রুতগতির বিভিন্ন যানবাহন। কিন্তু এসব দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে একই সড়কে স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এমনকি কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে উল্টো দিকেও এসব যান চলাচল করছে।
সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারায় সরকার বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে নির্দিষ্ট সড়ক, মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে বা অন্যান্য সড়কে নির্দিষ্ট শ্রেণির মোটরযান চলাচল নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একই আইনের ৪৩ ধারার ব্যাখ্যায় নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশা বা ভ্যান এবং অনুরূপ শ্রেণির থ্রি-হুইলারকে সড়ক বা মহাসড়কে চলাচলের অনুপযোগী যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের মূল সড়ক দিয়েই সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে । আবার কোনো কোনো চালককে বিপরীত দিক থেকেও আসতে দেখা যায়।
পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে এসব সিএনজি ও অটোরিকশায় করে যাত্রীরা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ, চৌয়ারা, সুয়াগাজী ও মিয়ার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করছেন। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচর থেকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতেও নিয়মিত চলাচল করছে এসব সিএনজি ও অটোরিকশা।
নিলয় হাসান নামের এক যাত্রী বলেন, বিশ্বরোড থেকে উপজেলা বা সুয়াগাজী যাওয়ার বাস বা অন্য কোনো গাড়ি সহজে পাওয়া যায় না। তাই সিএনজি বা অটোরিকশা করেই যেতে হয়।
কবির হোসেন নামের এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমরা তো রাস্তার মাঝখান দিয়ে চালাই না, এক পাশ দিয়ে চালাই। এতে কোনো সমস্যা হয় না।
বাসচালক বিল্লাল হোসেন বলেন, সিএনজি ও অটোরিকশাগুলো চলাচলের কারণে আমাদের বাস চালাতে সমস্যা হচ্ছে। তারা আবার উল্টো দিক থেকেও আসে। তখন নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃত্তিমান চাকমা বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে কুমিল্লার ময়নামতি থানা এলাকায় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ১৭৫টি পার্শ্বসড়ক রয়েছে। এসব পার্শ্বসড়ক দিয়ে থ্রি-হুইলারগুলো মহাসড়কে উঠে আসায় নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়ে।