
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে জামাতার কুড়ালের কোপে মজিদ মোড়ল (৬৫) নামে এক কলা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জামালপুর কলাপট্টি এলাকায় নিজ দোকানে অবস্থানকালে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
নিহত মজিদ মোড়ল জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। অভিযুক্ত জামাতা মোজাম্মেল হোসেন (৩৫) উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোজাম্মেলের সঙ্গে তার স্ত্রী শাহানাজ বেগমের দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। স্বজনদের অভিযোগ, মাদকে আসক্ত মোজাম্মেল নিয়মিত স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। সইতে না পেরে শাহানাজ স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোজাম্মেল সেখানে গিয়েও স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। এ নিয়ে শ্বশুর মজিদ মোড়লের সঙ্গে মোজাম্মেলের সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে।
নিহতের মেয়ে শাহানাজ বেগম জানান, শুক্রবার বিকেলে তার বাবা দোকানে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় মোজাম্মেল একটি ট্রলি ব্যাগ হাতে দোকানে ঢোকেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে তিনি মজিদ মোড়লের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। মজিদ মোড়ল রক্তে ভেসে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ট্রলি ব্যাগটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান মোজাম্মেল।
পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় মজিদ মোড়লকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “মজিদ মোড়লকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই থানায় জানানো হয়।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।