
“তহশিলদারের মিথ্যা প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন”
চাঁদপুর প্রতিনিধি: জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল করে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন – পিবিআই’র তদন্তে অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হয়ে আদালত থেকে জামিনও পান। কিন্তু এরপরও রেহাই মেলেনি বাদীর। পিবিআই’র প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তরা বাদী ও তার দুই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের বিরুদ্ধে দায়ের করেছেন হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা।
চাঁদপুর মডেল থানার সিআর ১২২/২০২৫ নম্বর মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই চাঁদপুর। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দালিলিক কাগজপত্র পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৭ ও ১০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪৭ ও ৫০৬ ধার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে অভিযুক্ত করা হয় সুরুজ তালুকদার, আবু তৈয়বুর রহমান ওরফে নান্টু, সুমন, আতিয়ার রহমান ওরফে রাজু এবং শাহজাহান তালুকদার ওরফে সাজুসহ ৫ জনকে। আদালত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার শর্তে তারা জামিনে মুক্তি পান।
পিবিআই’র মতে, অভিযুক্তরা বাদীর মালিকানাধীন জমিতে অনধিকার প্রবেশ, সীমানা খুঁটি ভাঙচুর এবং জোরপূর্বক চলাচলের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেন। পাশাপাশি বাদীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
বাদী মো: মহিউদ্দিন তালুকদার (৪৯)। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক, কর্মস্থল ঢাকায়। তার অভিযোগে জানা যায়,, ২০২৪ সালের ২১ জুন রাতে সুরুজ তালুকদার তার ঘরজামাই মোঃ বিল্লাল হোসেনসহ মহিউদ্দিন তালুকদারের ক্রয়কৃত জমি দখল করে নেয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মাপঝোঁকের মাধ্যমে পরে তিনি জমি ফেরত পান।
এরপর ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সকালে পুনরায় জমির সীমানা খুঁটি ভেঙে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করা হলে মহিউদ্দিন বাধা দেন। এসময় দা, কোদালসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেদিনই তিনি চাঁদপুর মডেল থানায় জিডি করেন। জিডি নং ৩৯৬, তারিখ:
২৮ জানুয়ারি জাতীয় দৈনিক গণজাগরণে সংবাদ প্রকাশের পর ৩০ জানুয়ারি তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
শাস্তির পরও হয়রানির অভিযোগ: পিবিআই’র প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পরে এবং বাদী মহিউদ্দিন তালুকদারের মামলার ১০ মাস পরে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সুরুজ তালুকদার বাদী হয়ে মহিউদ্দিন ও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক (১৪০৪/২৫ নম্বর) মামলা দায়ের করেন।
বাদী মহিউদিন তালুকদারের অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা তাদের প্রয়োজনে প্রায় ৭০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০-৪২ ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা ব্যবহার করেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কথিত রাস্তাটির দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৫০-৫২ ফুট। স্থানীয়রা জানান, ওই রাস্তাটি শুধু সুরুজ তালুকদার, তার ঘরজামাই বিল্লাল হোসেন এবং নান্টু ও সাজুর পরিবারই ব্যবহার করেন। অন্য বাড়ির কারও ব্যবহারের প্রয়োজনও নেই।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, সুরুজ তালুকদারদের বাড়ির পাশ দিয়েই জনসাধারণের জন্য আগে থেকেই একটি বড় রাস্তা রয়েছে। শিক্ষক মহিউদ্দিন তালুক ঢাকায় থাকেন এবং তার দুই ছেলে ঢাকায় লেখাপড়া করেন—এই সুযোগেই পেশীশক্তি দেখিয়ে তার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তহশিলদারের মিথ্যা প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন: তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি)র নির্দেশে স্থানীয় তহশিলদার (ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত ভূমি অফিসার) মোঃ ওমর ফারুক একটি প্রতিবেদন দেন। সেই প্রতিবেদনে ৭০০ ফুট দীর্ঘ রাস্তার কথা বলা হলেও পিবিআই’র সরেজমিন ও স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, উৎকোচের বিনিময়ে তহশিলদার ভিত্তিহীন প্রতিবেদন দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করেছেন এবং আগের মামলায় শাস্তির বিষয়টি গোপন করেছেন।
এ বিষয়ে বাদী মহিউদ্দিন বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু জমি দখল করে এখন আবার আমার ও আমার নিরীহ ছেলেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।