
বেরোবি প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগতের মাদক সেবন ও বিক্রি এবং তাদের সাথে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এই কঠোর অবস্থান নিয়ে মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সরজমিনে দেখা যায়, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকের পিছনে , কেন্দ্রীয় ফুটবল খেলার মাঠ এবং নবনির্মিত EEE Annex Building এর সামনে বহিরাগত মাদকসেবনকারীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। এসব স্পটে মাদক সেবনের পর ফেলে যাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিব বলেন, "মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কয়েকদিন আগে রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই নিরাপত্তা হুমকি আমাদের ক্যাম্পাসে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাত দশটার পর প্রতিদিন বহিরাগতদের কয়েকটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে বসে মাদক সেবন করে।যা আমাদের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। "
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিবো। গত দুই বছরে আমরা মাদকের সাথে জড়িত প্রায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তাদের মধ্য থেকে ৭ জনকে চালান দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোপ্রকার ছাড় দিবে না।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী যদি মাদকের সাথে জড়িত বা মাদক কেনা-বেচার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করে তাকে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে।”
ক্যাম্পাসে মাদকের এই বিস্তার এবং প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে বেরোবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিফাত হোসেন রাফি বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বর্তমানে মাদকসেবনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এবং ক্যাম্পাসে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি বাড়ানো। একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত পরিবেশই পারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে।
উল্লেখ্য, ইদানীং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মাদক সেবনের পাশাপাশি বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।