
রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রত্যাশা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো নানা সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এমন এক সময়ে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে গণঅধিকার পার্টি–পিআরপি জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার কথা বলছে। দলটির দাবি, ক্ষমতার রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতিই হবে তাদের মূল শক্তি।
ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সমন্বয়ে পিআরপি নিজেদের একটি মধ্যপন্থি ইসলামিক রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি, নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবস্থাপনার সংস্কার, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।
নতুন দল হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট ও ঐক্য, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের রোডম্যাপ এবং ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১০ দিনে সম্ভাব্য পদক্ষেপ—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন গণঅধিকার পার্টি–পিআরপি'র চেয়ারম্যান সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার। তাঁর ভাষায়, রাজনীতি ক্ষমতা ভোগের হাতিয়ার নয়; এটি জনগণের সেবা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক গণজাগরণ-এর প্রধান প্রতিবেদক এমএম রহমাতুল্লাহ।
দৈনিক গণজাগরণ: নবগঠিত গণঅধিকার পার্টি–পিআরপি গঠনের মূল উদ্দেশ্য কী? দেশের আপামর জনগণকে দলে টানতে আপনাদের বিশেষত্ব ও ভিন্নতা কোথায়? অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতা থেকে পিআরপি কী শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে চায়?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: গণঅধিকার পার্টি–পিআরপি গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আমরা মনে করি, রাজনীতি মানুষের সেবা করার মাধ্যম; ক্ষমতা ভোগের হাতিয়ার নয়।
আমাদের বিশেষত্ব হলো আমরা ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই। পিআরপি একটি মধ্যপন্থি ইসলামিক রাজনৈতিক দল। ইসলাম আমাদের কাছে ন্যায়, মানবিকতা, আমানতদারি, দুর্নীতিমুক্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।
আমরা অতীতের রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক অর্জনকে স্বীকার করি, আবার তাদের ব্যর্থতা থেকেও শিক্ষা নিতে চাই। বিশেষ করে দলীয়করণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সংস্কৃতি আমরা পরিহার করতে চাই।
দৈনিক গণজাগরণ: শুরু থেকেই দেখছি, দেশের অধিকাংশ মানুষের ধর্মবিশ্বাসের পক্ষে আপনারা লড়াই করছেন। এ বিষয়ে পিআরপির সুস্পষ্ট অবস্থান এবং কর্মপরিকল্পনা কী?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে আমরা সম্মান করি। প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মের নামে কোনো ধরনের উগ্রতা, সহিংসতা বা অন্যের অধিকার হরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
পিআরপি ইসলামের মধ্যপন্থি, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করবেন। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন ও সামাজিক সম্প্রীতিও আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দৈনিক গণজাগরণ: দেশপ্রেমিক জনগণের অধিকার আদায়ে পিআরপি কী নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে মাঠে কাজ করছে?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: আমাদের এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দু হলো জনগণ। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, ন্যায়বিচারের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।
এ জন্য আমরা মাঠপর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াচ্ছি। স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি তুলে ধরব। কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, তরুণ, নারী ও প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমস্যাকে রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে আনতে চাই।
দৈনিক গণজাগরণ: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন দল হিসেবে টিকে থাকা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: নতুন রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। শুধু বক্তৃতা বা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখতে হবে।
অর্থ, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সাংগঠনিক শক্তির পরিবর্তে আমরা জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করতে চাই। আমাদের নেতাকর্মীদেরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো অন্যায়, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত হওয়া যাবে না। আমরা চাই পিআরপির পরিচয় হবে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব রাজনীতি।
দৈনিক গণজাগরণ: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে পিআরপির প্রস্তুতি কতদূর? জোট বা ঐক্যের ব্যাপারে আপনাদের অবস্থান কী?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের খুব কাছের নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের এলাকার নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। পিআরপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। যোগ্য, সৎ, জনপ্রিয় ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থীদের আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই।
জোট বা রাজনৈতিক ঐক্যের বিষয়ে আমাদের অবস্থান হলো—জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমরা ইতিবাচক ঐক্যের পক্ষে। তবে শুধু ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য কোনো জোটে যাওয়ার নীতি আমাদের নেই। আদর্শ, নীতি ও কর্মসূচির সামঞ্জস্য থাকলে আমরা সমমনা রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
দৈনিক গণজাগরণ: বর্তমানে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে। এই সংকট থেকে উত্তরণে পিআরপির স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবনা কী? লোডশেডিং ও গ্যাসের অভাবে শিল্প-কারখানা বন্ধ হলে কর্মসংস্থানের কী হবে?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: জ্বালানি নিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তারও অংশ। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিশ্চয়তার কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হলে শুধু ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও ঝুঁকিতে পড়ে।
স্বল্পমেয়াদে আমাদের প্রস্তাব হবে—জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, অপচয় ও অবৈধ সংযোগ বন্ধ, সিস্টেম লস কমানো এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে হবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করতে হবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আমরা চাই শিল্প-কারখানা বন্ধ নয়, বরং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ুক। জ্বালানি নীতির কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে—সাশ্রয়ী জ্বালানি, স্থিতিশীল শিল্প উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান।
দৈনিক গণজাগরণ: চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। এটি নিয়ন্ত্রণে আপনার দল সরকারের কাছে কী দাবি জানাচ্ছে? মাঠ পর্যায়ে আপনাদের ভূমিকা কী হবে?
উসরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সরকারের কাছে বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, অবৈধ সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রকৃত ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছি।
মাঠপর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীরা জনগণের কাছ থেকে অভিযোগ সংগ্রহ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরবেন। তবে আমরা নিজেরা আইন হাতে তুলে নেব না। রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হলো জনগণের কথা বলা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে তাদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা।
দৈনিক গণজাগরণ: দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে আপনারা সরকারের নীতিকে কতটা দায়ী মনে করেন?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ থাকে। আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, বিনিময় হার, উৎপাদন ব্যয়—এসবের প্রভাব রয়েছে। তবে সরকারের নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও যদি থাকে, তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
আমরা শুধু সরকারকে দোষারোপ করতে চাই না; আমরা সমাধান চাই। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
দৈনিক গণজাগরণ: সম্প্রতি আপনাকে "বেকারমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রবর্তক" হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পিআরপির রোডম্যাপ কী?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শুধু দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য দিলেই হবে না, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। আমরা প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ডিজিটাল সেবা, সরকারি ক্রয়ে জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা চাই।
দুর্নীতির সুযোগ কমাতে সরকারি সেবাকে যতটা সম্ভব ডিজিটাল করতে হবে। নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
আমাদের কাছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি।
দৈনিক গণজাগরণ: প্রশাসন ও রাজনীতিতে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি বন্ধে আপনারা কী কৌশল নেবেন? ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১০ দিনে কী করবেন?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই আমরা কয়েকটি বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে চাইব। প্রথমত, সরকারি ক্রয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৃতীয়ত, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চতুর্থত, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যবসা, টেন্ডার বা প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না—এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান থাকবে। পিআরপির কোনো নেতা বা কর্মীও যদি দুর্নীতি বা চাঁদাবাজিতে জড়িত হন, দলীয় পরিচয় তাকে রক্ষা করবে না।
দৈনিক গণজাগরণ: তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে পিআরপির স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কী?
উত্তর: তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে দেখলে হবে না; তাদের উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
স্বল্পমেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। কোন খাতে কত দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সাজাতে হবে। কৃষি, আইটি, উৎপাদনশিল্প, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন তরুণ চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করবেন না; বরং নিজের দক্ষতা দিয়ে নিজের এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।
দৈনিক গণজাগরণ: সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী? কেন তারা পিআরপির ওপর ভরসা করবে?
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: আমি সাধারণ মানুষের কাছে একটি কথাই বলতে চাই—রাজনীতি আপনাদের জন্য, আপনাদের বিরুদ্ধে নয়। আপনারা রাজনীতিকে ভয় পাবেন না; বরং সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের অধিকার প্রয়োগ করুন।
পিআরপি জনগণকে শুধু ভোটার হিসেবে দেখতে চায় না; আমরা তাদের রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হিসেবে দেখতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতা থাকবে, কিন্তু কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না; উন্নয়ন থাকবে, কিন্তু দুর্নীতি থাকবে না; শিল্প ও কর্মসংস্থান থাকবে, কিন্তু বেকারত্বকে স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।
আমরা জনগণের কাছে অযৌক্তিক প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। আমরা বলতে চাই—আমাদের কাজ দেখুন, আমাদের নেতাকর্মীদের আচরণ দেখুন এবং আমাদের নীতি ও কর্মসূচি বিচার করুন। তারপর আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
পিআরপির রাজনীতির মূল কথা—জনগণের অধিকার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র, সুশাসন, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।
দৈনিক গণজাগরণ: আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার: আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।