
কালীগঞ্জ সংবাদদাতা: গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) নামের এক পোশাক শ্রমিকের কঙ্কালের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা ও নিহত সৌরভের ভগ্নিপতি রবিউল ইসলাম (২৬) এবং তার সহযোগী শাহীন আলম (২৭)। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মাদারীপুরের রাজৈর থানার উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কাল ও পরনের পোশাক উদ্ধার করা হয়।
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জিএমপির সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। নিহত সৌরভ জামালপুর জেলার বাসিন্দা এবং গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট সৌরভ হঠাৎ নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তার মা কাকলী বেগম জিএমপির সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তিগত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয় যে এটি সাধারণ নিখোঁজের ঘটনা নয়। এরপর সৌরভের মা বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর দত্ত জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে মাদারীপুর ও সাতক্ষীরা থেকে প্রথমে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শাহীন আলমকে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। চার বছর আগে সৌরভের বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে কিছুদিন আগে নুপুর সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে শ্যালক সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রবিউল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে শাহীনকে ভাড়া করেন রবিউল। গত ৩ আগস্ট কৌশলে সৌরভকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সে রাতে রাজৈর থানার একটি ডোবার কাছে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর লাশ টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
জিএমপি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত দায় স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে মোট চারজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ও শাহীনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।