
জাকির ফরাজী: দূরত্ব যেন তাদের ভালোবাসার কাছে হার মেনেছে। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা থেকে প্রায় ৯০ জনের একটি দল দুটি বাসে করে দীর্ঘ ৩০০কি:মি: পথ পাড়ি দিয়ে পিরোজপুরে এসেছেন প্রয়াত আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কবর জিয়ারত করতে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দলনেতা আদিল ভূঁইয়া।
প্রিয় আলেমের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই হয়ে পড়েন আবেগাপ্লুত। কেউ নীরবে চোখের পানি মুছেছেন, কেউ দুহাত তুলে দোয়া করেছেন। আবার কেউ স্মরণ করেছেন তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের নানা স্মৃতি।
দলটির দলনেতা আদিল ভূঁইয়া বলেন, “৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব আমাদের থামাতে পারেনি। আমরা তাঁকে ভালোবাসি, তাঁর বক্তব্য শুনেছি, তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাই মনের টানেই এত দূর থেকে তাঁর কবর জিয়ারত করতে এসেছি।”
একান্ত সাক্ষাৎকারে গণমাধ্যমে আরো বলেন উপমহাদেশের একজন বরেণ্য আলেম, আমরা জন্মের পর থেকেই তার তাফসীর ওয়াজ মাহফিল শুনেছি এবং দেখেছি তার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে আমাদের পিতা-মাতার জন্য যতটুকু চোখের পানি ঝরছে তার চাইতেও বেশি পানি ঝরছে আল্লামা সাঈদী হুজুরের জন্য , সারা বিশ্বের মানুষ কেঁদেছে আল্লামা সাঈদীর জন্য। আমাদের আশা ছিল জানা যায় স্বামীল হবো, কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের বাধার মুখে আমরা আসতে পারিনি আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের পরেই আমরা সকলেই উনার জন্য কবর জিয়ারত শেষে দোয়া মাগফেরাত কামনা করেছি ,সাঈদী সাহেবের যে স্বপ্ন ছিল আল্লাহর এই জমিনে আল্লাহর দিন কায়েম হোক কোরআনের রাজত্ব এ দেশের প্রতিষ্ঠিত হোক, তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন আমরাও আজকের এই কবর জিয়ারত শেষে এখান থেকে ফিরে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে প্রতিজ্ঞা করছি যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর এই জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম না হবে কোরআনের রাজত্ব কায়েম না হবে ততদিন পর্যন্ত আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
নরসিংদী রায়পুরা থেকে আসা আরেক ব্যক্তি মোজাম্মেল সরকার বলেন, “সাঈদী সাহেব আর আমাদের মাঝে নেই—এটা মেনে নেওয়া কঠিন। তবে তাঁর কণ্ঠ, তাঁর বক্তব্য এবং তাঁর স্মৃতি এখনো আমাদের মাঝে জীবন্ত। তাঁর কবরের পাশে এসে দাঁড়ালে মনে হয়, প্রিয় একজন মানুষকে আবারও কাছে হাসিনা”
মোজাম্মেল সরকার বলেন আমি হুজুরকে সরাসরি দেখিনি তবে তার আলোচনা রেডিও তে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। ইচ্ছে ছিল তার জানাজায় অংশগ্রহণ করা কিন্তু তৎকালীন হাসিনা প্রশাসনের বাধার কারণে আমরা জানা যায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি, আমি একজন আলেম আমি আল্লামা সাঈদীর মত একজন কোরআনের পাখি হতে চাই যদিও তার মত করে হওয়া সম্ভব নয় তারপরেও তার আলোচনা শুনি ব্যক্তিগত। আল্লামা সাঈদীর মত বর্তমান আমি কোন আলেম খুঁজে পাই না, আমি একটি মেসেজ নিয়ে এখান থেকে যেতে চাই আমিও সাঈদীর মত করে নিজেকে তৈরি করতে চাই উনি যে স্বপ্ন নিয়ে কাজ করেছেন আমরাও সেই স্বপ্ন লালন করে এবং তার থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলার ভূখন্ডে কোরআনের শাসন কায়েম করব ইনশাল্লাহ।
কবর জিয়ারতের সময় উপস্থিত অনেকের চোখেমুখে ছিল গভীর আবেগ। তাঁরা সাঈদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন। পাশাপাশি নিজেদের পরিবার, দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনা করেন।
দলটির সদস্য ফয়সাল জানান, এটি শুধু একটি সফর নয়; তাঁদের কাছে এটি ছিল প্রিয় একজন আলেমের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কবর জিয়ারতে আসার মধ্য দিয়ে তাঁরা সেই অনুভূতিই প্রকাশ প্রকাশ করেছেন, পিরোজপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এমপি'র কাছে আবেদন করেন এই পিরোজপু বাঁশিরর খেদমত করে, এবং বাংলাদেশের আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মত খেদমত করে বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের জন্য ভালো ভূমিকা পালন করেন
এটাই নরসিংদী থেকে আসা একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার প্রত্যাশা।
নরসিংদীর রায়পুরা থেকে পিরোজপুরের নতুন বাস বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন—দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে প্রায় ৯০জন মানুষের একসঙ্গে কবর জিয়ারতের দৃশ্যটি উপস্থিতদের মধ্যেও আবেগের সৃষ্টি করে।
দূরত্ব যতই হোক, প্রিয় মানুষের স্মৃতির টান যে কতটা গভীর—রায়পুরা থেকে আসা এই মানুষগুলোর সফর যেন তারই এক আবেগঘন উদাহরণ।