
জাকির ফরাজীঃ পিরোজপুর জেলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের টিমভিত্তিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি ভবন মালিকদের নিজ নিজ স্থাপনা ও আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে চিঠি দিয়ে সচেতন করা হবে। নির্দেশনা না মানলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।
জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে চাই।আমরা পরিবর্তন হতে চাই এবং পরিবর্তন সম্ভব—এটা আমাদের কাজের মাধ্যমে দেখাতে হবে।”
তিনি বলেন, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে স্বেচ্ছাসেবকদের টিম অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবন মালিকদের চিঠি দিয়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ নিজ ভবন ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সচেতন করা হবে। এরপরও কোনো স্থাপনা বা আঙিনা অপরিষ্কার পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, যেসব নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে, তাদের সক্রিয়ভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিতে হবে। কোনো সংগঠন দায়িত্বশীলভাবে কাজ না করলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংগঠনগুলোর পরিচালিত কার্যক্রমের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আবু সাঈদ আরও বলেন, “নিজ শহরের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ বা ইগো রাখা যাবে না। আমরা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করি, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে পারব। এ জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে।”
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন শহর শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রশাসন, পৌরসভা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ী, ভবন মালিক ও সাধারণ নাগরিক—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। নিজেদের বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইব্রাহিম খলিল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল হাই মল্লিকসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় জেলার সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিচ্ছন্ন পিরোজপুর গড়ে তুলতে প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।