
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ, ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-লুটপাট এবং নয়াপল্টনের ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি এসব ঘটনার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দিয়ে দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণমাধ্যমের খবরে চিকিৎসাকেন্দ্রটি ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির একজন সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
গোলাম পরওয়ার দ্রুত হামলার মূল হোতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা পুনরুদ্ধারে ক্ষতিপূরণ, অবকাঠামো সংস্কার, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, গত শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার অভিযোগ নিয়েও বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গোলাম পরওয়ারের দাবি, নিউগ্রিনি প্রোপার্টিজে অবস্থিত ওই স্টুডিওতে রামদা ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর এবং মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়েছে।
জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পক্ষের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিএনপির কর্মীরা স্টুডিওতে হামলা চালিয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। ঘটনাটিরও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে, শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনের ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও তোলেন গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, কথিত স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতা লিয়ন ও ফরহাদের নেতৃত্বে একটি দল হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। এ সময় হাসপাতালের কাচ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং রিসেপশনের কর্মকর্তাদের মারধর করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুতরভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে। জনগণের সেবায় নিয়োজিত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং দখলচেষ্টার অভিযোগ উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাগরিকদের জানমাল ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।