
রহমাতুল্লাহ: ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে দিয়েছে সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে এ অর্থ দাবি করা হলেও বিষয়টি আগে থেকে বাংলাদেশ সরকার, হজ এজেন্সি বা হজযাত্রীদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
আটকে থাকা অর্থ দ্রুত ছাড় করাতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ চেয়েছে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠনটি। একই সঙ্গে চলতি বছরের জন্য বাংলাদেশের হজ কোটা অন্তত আরও ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে হাব।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ারসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, হজ চুক্তিতে কিংবা এর আগে কোনো পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার, হজ এজেন্সি বা হজযাত্রীদের ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে রাখা বা চিকিৎসা ব্যয়ের নামে এ অর্থ দাবির বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। হঠাৎ করে সৌদি সরকার অর্থ দাবি করায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে কোনো হজযাত্রী চিকিৎসা ব্যয় খাতে কোনো টাকা পরিশোধ করবেন না। আমরা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে উল্লেখিত ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল দ্রুত ছাড় করানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবেও জানানো হয়েছে।”
হাব মহাসচিব বলেন, সরকারের উদ্যোগে সমস্যার সমাধান না হলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আপৎকালীন তহবিল থেকে এ অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। হজযাত্রীরা এ টাকা পরিশোধ করবেন না এবং এজেন্সিগুলোর পক্ষেও এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
এদিকে ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা অন্তত আরও ২০ হাজার বাড়ানোর জন্য সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে হাব।
হাব মহাসচিব জানান, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৫ মে, ৯ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরি পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবার সৌদি সরকার বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশের মূল হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হলেও গত কয়েক বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের কোটা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এবার নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার পরও আরও ২০ হাজারের বেশি মানুষ হজে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে দাবি করেছে হাব।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, অপেক্ষমাণ এসব হজযাত্রী হজ পালনের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত। কোনো কোনো পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিবন্ধিত হলেও অন্য সদস্যরা অপেক্ষমাণ রয়েছেন। ফলে তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সৌদি সরকারের কাছে অন্তত আরও ২০ হাজার হজ কোটা বরাদ্দ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হওয়ায় অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার যৌক্তিক দাবিও বাংলাদেশের রয়েছে। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ কোটা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজলভ্য ও হজযাত্রীবান্ধব করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও দাবি করেন হাব মহাসচিব।
তার ভাষ্য, এসব পদক্ষেপের সুফল হিসেবে এবার হজযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ জন্য হাব ও দেশের ধর্মপ্রাণ হজযাত্রীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ধর্মমন্ত্রী শাহ্ কাজী মোফাজ্জল হোসেন এমপির বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন হাব মহাসচিব। তিনি বলেন, ধর্মমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ অর্থ ব্যয়ে হজযাত্রীদের জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
হজ ক্যাম্পে দিন-রাত উপস্থিত থেকে হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করায় ধর্মমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
আটকে থাকা ৩০ লাখ রিয়াল ফেরত পাওয়া এবং হজের কোটা বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি সরকারের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, জেদ্দা ও রিয়াদে সফরকালে সৌদি সরকারের মন্ত্রীরা একাধিকবার বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীকে সাক্ষাতের সুযোগ দিয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় গত হজ কার্যক্রম সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
“আমাদের বিশ্বাস, ধর্মমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করলে দ্রুত আমাদের সমস্যার সমাধান সম্ভব,” বলেন হাব মহাসচিব।
হাবের পক্ষ থেকে এখন মূলত দুটি বিষয়ে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রত্যাশা করা হচ্ছে—সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কাছে আটকে থাকা প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল ছাড় করানো এবং অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের জন্য অন্তত আরও ২০ হাজার কোটা আদায় করা। সংগঠনটির মতে, এ দুটি বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হলে বিপুলসংখ্যক হজপ্রত্যাশীর অনিশ্চয়তা দূর হবে।