
জ্ঞান ও চিন্তার পরিশুদ্ধিতে প্রকাশনীকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ইসলামিক ইনস্টিটিউটের (বিআইআই) চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, আদর্শিক বিপ্লবের পূর্বশর্ত হলো সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিশুদ্ধি। সব নবী-রাসূল (আ.) দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বাগ্রে মানুষের চিন্তা ও মননের পরিশুদ্ধি সাধন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জ্ঞান ও চিন্তার শুদ্ধ বিকাশে আধুনিক প্রকাশনীকে আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যুগের চাহিদা ও বাস্তবতার আলোকে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে গবেষক, লেখক ও অনুবাদকদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের একটি হোটেলে ‘আধুনিক প্রকাশনী’ আয়োজিত লেখক ও অনুবাদকদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিআইআইয়ের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিআইআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুর রব। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ড. ছমিউল হক ফারুকী এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।
সভায় আরও মতামত দেন কবি সোলায়মান আহসান, কবি হাসান আলীম, শিশু সাহিত্যিক শরীফ আব্দুল গোফরান, প্রফেসর ড. ইয়াহইয়া মান্নান, কাজী মোর্তুজা আলী, এ এন এম সিরাজুল ইসলাম, কবি জাকির আবু জাফর, আলী আহমাদ মাবরুর, সাইয়্যেদ রাফে সামনান, মাওলানা মহিউদ্দিন কাশেমী ও মাওলানা নাজমুল ইসলামসহ অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিশ্ব মিডিয়া ও প্রকাশনা জগতে জায়নবাদী শক্তির প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রভাব থেকেও বাংলাদেশ পুরোপুরি মুক্ত নয়। এ বাস্তবতায় দেশের জ্ঞানচর্চা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে লেখক, গবেষক ও অনুবাদকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিপ্লবের আগে প্রয়োজন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বিপ্লব। এ ক্ষেত্রে আধুনিক প্রকাশনীকে আরও স্মার্ট, সৃজনশীল ও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারলে তা একটি কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথি উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুর রব বলেন, সুস্থ সাহিত্য-সংস্কৃতি ও মননশীল গবেষণার ধারা শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই আধুনিক প্রকাশনী লেখক, অনুবাদক ও গবেষকদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং ক্রমেই তা আরও বিস্তৃত পরিসরে বিকশিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া সাহিত্যিক, লেখক, অনুবাদক ও গবেষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে আধুনিক প্রকাশনীর কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও গতিশীল করতে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।