
ডেস্ক রিপোর্ট: ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতার অধিকার ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি প্রশাসনে দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
১ অক্টোবর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানান। ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ উল্লেখ থাকা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির নেতারা ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যোগ্য প্রার্থীদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এমনকি মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া কয়েকজন প্রার্থীকেও গেজেটে রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে—জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে পারিবারিক বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের পাশাপাশি কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা যোগ্য প্রার্থীরাও গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা বা সরকারি ব্যাখ্যা বিবৃতিতে উপস্থাপন করা হয়নি।
বিবৃতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো নাগরিককে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত না করার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণ করা একজন নাগরিকের অধিকার। এ কারণে কাউকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রবণতা বৈষম্য তৈরি করবে।
৪৯তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির অভিযোগ, ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী প্রার্থীদের চাকরির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সুপারিশ, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুকূলে ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা পৃথক তদন্তের তথ্য অবশ্য বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি।
শিবির নেতারা বলেন, ভেরিফিকেশনের পর কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন ও আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পুনর্গঠন করতে হবে।
তারা অবিলম্বে বাদ পড়া যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সম্পূরক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে মেধার অধিকার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন সংগঠনটির নেতারা।