
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি এবং মশাবাহিত এ রোগে প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে আগামী ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী সচেতনতা সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণ, দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা। এ অবস্থায় জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ সচেতনতামূলক কর্মসূচি সফল করা সম্ভব। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে সতর্ক করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কোনো নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, মশার লার্ভা জন্মানোর উৎসগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করতে নাগরিকদের সচেতনভাবে উদ্যোগী হতে হবে। এ লক্ষ্যে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুলের টব ও টবের নিচে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত বালতি ও বৃষ্টির পানি জমতে পারে—এমন সব পাত্র পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বর মাসে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে সরকারের বক্তব্যনির্ভর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না এবং নাগরিকদের প্রাণহানি বাড়ছে। তিনি বড় বড় প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলায় শুধু সরকারের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি নিরাপদ দেশ ও সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশবাসীর পাশে থাকতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ঘোষিত সচেতনতা সপ্তাহের কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেন তিনি।