
এম এম রহমাতুল্লাহ: পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের ওমরাহ কর্মসূচির আওতায় ৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ওমরাহ পালনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে সৌদি আরব।
বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সেবা করা এবং মক্কা আল-মোকাররমা ও মদিনা আল-মোনাওয়ারার পবিত্র স্থানগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার সহজ করার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অব্যাহত প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন এই আমন্ত্রণ।
এ উপলক্ষে রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকায় সৌদি দূতাবাসে এক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র যাত্রার প্রাক্কালে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য শুভকামনা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। তিনি এই কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কনস্যুলার শাখার প্রধান জনাব আবদুল্লাহ আল-হারবি এবং ইসলামিক বিষয়ক প্রধান জনাব ইউসুফ আল-আহমাদি। রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম বিষয়ক পরিচালক ইয়াসির শেশাহ পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন।
আমন্ত্রিত ৩০ জনের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির প্রতিনিধিরা, যাদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং পবিত্র কোরআনের হাফেজগণ অন্যতম।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত বাংলাদেশি অতিথিরা বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে আতিথেয়তা লাভ করবেন এবং ওমরাহ পালন ও দুই পবিত্র মসজিদ জিয়ারতের সুযোগ পাবেন। অতিথিদের হজযাত্রা সহজ করতে এবং পবিত্র স্থানগুলোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদার সঙ্গে উপলব্ধি করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ও সেবা প্রদান করবে এই কর্মসূচি।
বাংলাদেশি মনোনীতদের নির্বাচন সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিশ্বাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধনকে তুলে ধরে।
কিং সালমান ওমরাহ কর্মসূচি সৌদি আরবের অন্যতম উদ্যোগ, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ওমরাহ পালন এবং দুই পবিত্র মসজিদ জিয়ারতের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এটি পবিত্র স্থানগুলোতে হাজি ও দর্শনার্থীদের সেবা করা এবং তাদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে রাজ্যের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
সৌদি সরকার, তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের নির্দেশনা অনুযায়ী ওমরাহ পালনকারী এবং দুই পবিত্র মসজিদের দর্শনার্থীদের সেবা ও যত্নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
৩০ জন বাংলাদেশিকে এই আমন্ত্রণ বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের স্থায়ী বন্ধুত্বের আরেকটি বহিঃপ্রকাশ এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে জনগণে-জনগণে, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিদায় অনুষ্ঠানে সৌদি দূতাবাস আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য শুভকামনা জানায় এবং মহান আল্লাহ যেন তাদের ওমরাহ কবুল করেন, নিরাপদ যাত্রা দান করেন এবং তাদের তীর্থযাত্রায় বরকত দান করেন - এই দোয়া করে।