
ড. মো. মনছুর আলম
১.
রাজশাহী মহানগরের হৃদয় সলীলায় প্রবাহিত ‘বারাহী নদী’ একটি অতি প্রাচীন নদী। বারাহী নদী পদ্মা (গঙ্গা) নদী প্রণালির অন্যতম শাখানদী। প্রবহমান পদ্মা (গঙ্গা) নদীর বামবাহু রাজশাহী শহরের কুমারপাড়া থেকে উৎপত্তি অর্থাৎ মুন্নুজান প্রাইমারী স্কুলের পাশে পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি এবং নওহাটা মহানন্দখালী বারনই নদীতে নিপতিত। বারাহী নদী বর্তমানে রাজশাহী মহানগরের পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজশাহী নগরীর যত ড্রেনেজ-শুয়ারেজ লাইন আছে তার বেশিরভাগই কোনো না কোনো ভাবে এই নদীর সাথে সংযুক্ত রয়েছে। নদীটির বেশিরভাগ অংশ বিলুপ্ত হলেও নগরীর বিজিবি ক্যাম্পের আগে আসাম কলোনি থেকে এর মোহনা নওহাটা পর্যন্ত নদীর অস্তিত্ব এখনও লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বারাহী নদীর আসাম কলোনি থেকে নওহাটা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার অংশ নিয়ে একটি যুৎসই-লাগসই প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করলে রাজশাহী মহানগরীতে একদিকে যেমন পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে অপরদিকে সুন্দর, পরিপাটি. পরিচ্ছন পরিবেশসম্মত নগরীর তালিকায় শতভাগ পূর্ণতা পাবে বলে নিশ্চিত বলা যায়। মূলত এই বিষয়টি নিয়েই আজকের লেখা।
২.
রাজশাহী নগরের বুকচিরে প্রবাহিত হওয়া এক সময়ের অত্যন্ত খরস্রোতা বারাহী নদী এখন নানা শৃঙ্খলে বন্দী। নদীর গতিপ্রকৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য আলোচনা পর্বে আমরাদের অনুসন্ধানে প্রথমেই যে বিষয়টি উঠে এসছে, ‘বারাহী নদী’ রাজশাহী জেলার একটি অতি প্রাচীন ও মানুষ ঘেঁষা নদী ছিল। এক সময়ে সাহেবগঞ্জ যা ১৮৮৫ সালের বন্যা ও নদী ভাঙনে সাহেবগঞ্জ মৌজার অধিকাংশ পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যায় সেই সাহেবগঞ্জ পদ্মা নদী থেকে বারাহী নদীর উৎপত্তি। বর্তমান কুমারপাড়া-সাহেবগঞ্জের মাঝ দিয়ে এবং নগরীর মুন্নুজান প্রাইমারী স্কুলের পশ্চিম পাশ দিয়ে বারাহী নদী প্রবাহিত হয়েছে। কুমাড়পাড়া থেকে উত্তর দিয়ে অগ্রসর হয়ে ব্রাইটস্টার ক্লাবের নিচ দিয়ে এঁকেবেঁকে শহরের সাহেববাজার বড়ো মসজিদকে পশ্চিমে রেখে জিরোপয়েন্ট অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ সাহেববাজার বড়ো মসজিদের পূর্বপাশ দিয়ে (মসজিদের পূর্বপাশের ১ম ড্রেনটাই এই বারহী নদী) অগ্রসর হয়ে তুলাপট্টি, রানিবাজার, ষষ্ঠীতলা এবং নগরভবনের গ্রিন প্লাজার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বড়ো রাস্তা অতিক্রম করেছে। অতঃপর এখান থেকে রেল লাইনের পাশ দিয়ে পূর্বমুখী অগ্রসর হয়ে গোরহাঙ্গা মোড় অতিক্রম করে পুনরায় স্টেশন রোড অতিক্রম করে রেলওয়ে অফিস চত্বরের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। এখান থেকে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশ দিয়ে অগ্রসর হয়ে বিজিবি ক্যাম্পের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হয়ে বড়ো বনগ্রামে প্রবেশ করেছে। এখানে নদী তীরবর্তী মৌজাটি পবা গাঙপাড়া নামে পরিচিত। প্রাচীন কালে এখানে যে একটি নদী বা গাঙ ছিলো এই ‘গাঙপাড়া’ নাম থেকে তা স্পষ্টত প্রমাণিত। বারাহী নদী এখান থেকে অগ্রসর হয়ে মুশরইল, কৃষ্ণগঞ্জ, মতিয়ারবিল, সন্তোষপুর, হয়ে বায়া বাজার অতিক্রম করেছে। প্রাচীনকালে এই বায়া বাজার বারাহী নদীর তীরে একটি বিখ্যাত নৌবন্দর ছিল। অতঃপর বারাহী নদী বায়া বিমান বন্দরের পাশ দিয়ে আরও কিছুদূর অগ্রসর হয়ে রাজশাহীর অপর একটি বিখ্যাত নৌবন্দর নওহাটা ব্রিজের সামান্য পশ্চিমে মহানন্দখালী বারনই নদীতে গিয়ে পতিত হয়েছে।
৩.
রাজশাহীর নদী গবেষক মাহাবুব সিদ্দিকী তাঁর রচিত ‘ফিরিয়ে দাও সেই প্রবাহ’ গ্রন্থের উদ্ধৃতি থেকে জানা যায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলর প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার তাঁর স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন, তিনি যখন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে পড়তেন তখন তাঁর বাসা রানিবাজার থেকে এই বারাহী নদী পার হয়ে স্কুলে যেতেন। সে সময় তিনি ১ পয়সা দিয়ে খেয়া পারাপার হতেন। তিনি আরও লিখেছেন, তখন বারাহী নদী অত্যন্ত প্রবাহিনী এবং বেগবতী নদী ছিল। নদী গবেষক মাহাবুব সিদ্দিকী বলেন, এক সময় এই নদী দিয়ে বড়ো বড়ো নৌকা, জাহাজ, স্টিমার এমনকি রণতরীও চলাচল করত। ইতিহাস পাঠে জানা যায়, এই নদী পথে মোগল সুবেদার মানসিংহ আজ থেকে প্রায় পাঁচশত বছর পূর্বে পদ্মা নদী হতে বারাহী নদী পথে রণতরী নিয়ে আত্রাই নদীতে যাতায়াত করতেন।
৪.
এক সময়ের স্রোতস্বিনী-প্রবাহিনী ‘বারাহী নদী’র অর্ধেক অংশ এখন নিশ্চিহ্ন; যা মহানগরীরির গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকী অর্ধেক অংশ বড়ো ড্রেন বা ক্যানেল হিসেবে নগরের ড্রেনেজ-সুয়ারেজের পানি নিষ্কাশনের বড়ো ক্যানেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নদীর এই অংশটুকু এখনও জানান দিচ্ছে ‘এইখানে এক নদী ছিল’। নগরীর বিজিবি ক্যাম্প হতে নওহাটা পর্যন্ত বারাহী নদী এখন রাজশাহী নগরবাসীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখো গেছে, বারাহী নদী এই অংশে ড্রেনেজ-সুয়ারেজের দুষিত কালো-ময়লা পানিতে পরিপূর্ণ, যা পানি-বায়ু দূষণ ঘটাচ্ছে; ময়লা-আবর্জনার উৎকট গন্ধ, নদীর মধ্যে বাঁশের মাচাল তৈরি করে ব্রয়েলার মুরগির ফ্রার্ম, বাজারের পাশে হাঁস-মুরগি ব্যবসায়ীরা উচ্ছিষ্টাংশ অবাধে নদীতে ফেলছে; হাসপাতাল-ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, শিল্প-কারখানার বর্জ্য; রং, কেমিক্যাল পরিশোধন ছাড়াই নদীতে ফেলছে। ফলে বারাহী নদী মশা-মাছি, রোগ-জীবানুর উত্তম প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্বচক্ষে দেখে মনে হলো, ‘বারাহী নদী’র এই অংশ এখন তীরবাসীর জন্য নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বারাহী নদীর দূষিত পানিতে প্রায় অর্ধশত রোগ-জীবণু উৎপন্ন হচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীরির এই নরককুণ্ডর ভয়ঙ্কর রূপ নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
৫.
বারাহী নদী রক্ষা, উদ্ধার এবং নদী দখল-দূষণ নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামও কম হয়ানি। নদী ও পরিবেশবাদী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, এনজিও, মৎসজীবী সংগঠন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই বারাহী নদী রক্ষায় সোচ্চার হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), রিভারাইন পিপল, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, গ্রিন কোয়ালিশন, বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক), নওহাটা সৎসজীবী সমবয় সমিতি অন্যতম। তারা সভা-সেমিনার, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, লিফলেট বিতরণসহ নদী পাড়ের বাসিন্দা, কৃষক, জেলে, মৎসজীবীদের নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন ও সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করে আসছে। তারা বার বার অভিযোগ করে আসছে, রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন নালা দিয়ে অপরিশোধিত তরল ও কঠিন বর্জ্য, পলিথিন, ময়লা আবর্জনা, মেডিক্যাল বর্জ্য বারাহী নদী দিয়ে বারনই নদী হয়ে এইসকল বর্জ্য পদার্থ আশপাশের জলাশয়, বিল, কৃষিজমিতে গিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে, নিম্নাঞ্চলেরর সাপমারার বিল, বকমারি বিল, ভূগরোইল বিল, পাইকরের বিল, বড়বাড়িয়া বিল এবং কর্ণহার বিলে প্রবেশ করেছে। ফলে এই সকল এলাকার কৃষি, মৎসসম্পদ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
৬.
রাজশাহী নগরায়ন বা নগরে অভিগমনের সূচনা হয় ষোল শতকের গোড়ার দিকে হযরত শাহ মখদমের (রহ.) এর সময় থেকে। ইউরোপীয়দের আগমন ও তাদের নীল চাষ, রেশম চাষ, বড়ো কুঠি স্থাপন, রামপুর-বোয়ালিয়াতে নীল ও রেশমের সমৃদ্ধ ব্যবস্যাকেন্দ্র স্থাপন প্রভৃতি নগরায়নের গতি বাড়িয়ে দেয়। ১৮২৫ সালে নাটোর থেকে রাজশাহীতে জেলা সদর দপ্তর স্থানন্তরিত হলে রাজশাহী নগরকে আর পেঁছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৮২৫ সালে জেলখানা স্থাপন, ১৮২৮ সালে রোয়ালিয়াতে প্রথম স্কুল স্থাপন (পরে কলেজিয়েট স্কুল), ১৮৫৫ সালে নবীনগর থেকে কাজলা পর্যন্ত ১২ কিমি শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ১৮৬৫ সালে সদর হাসপাতাল স্থাপন, ১৮৭৬ সালে রাজশাহী পৌরসভায় উন্নীতকরণ, ১৮৮৪ সালে পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন, ১৯১০ সালে বরেন্দ্র জাদুঘর স্থাপন, ১৯২৯ সালে কলকাতার সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং ১৯৩৬ সালে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর মধ্য দিয়ে অধুনিক শহরের যাত্রা শুরু করে। এ সময় পর্যন্ত বারাহী নদীর প্রবাহধারা কিন্তু ঠিকই ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে ষাটের দশকে, যখন রাজশাহী নগরায়নের মাত্রা উত্তরদিকে বাড়তে থাকে। স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর স্থাপন, রেলপথ সমৃদ্ধকরণ শহরের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় অনেকগুণ। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ১৯৫১ সালে রাজশাহী শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল অনেকগুণ বেশি; তার চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ বেশি ছিল শহরতলী বা উপশহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর রাজশাহী নগর উন্নয়নের গতি যে হারে বৃদ্ধি পতে থাকে ঠিক তার দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে শহরে জনঅভিগমনের হার। এ সময় সমগ্র উত্তরবঙ্গ নিয়ে রাজশাহী বিভাগ গঠিত হলে প্রশাসনিক মান উন্নয়ন ও বিভিন্ন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠে। বিশেষ করে, শিক্ষা বোর্ড, রেডিও স্টেশন, টেলিফোন, বিভাগীয় স্টেডিয়াম, শহরের মধ্যে ৪ কিমি দৈর্ঘ্যরে গেটার রোড, ৯ কিমি দৈর্ঘ্যরে রাজশাহী-নওহাটা রোড, রজশাহী বিশ্বদ্যিালয় (১৯৫৩), সমাজসেবা অধিদপ্তর (১৯৫৪) আঞ্চিলিক পরিসংখ্যান অফিস (১৯৬০), পানি উন্নয়ন বোর্ড (১৯৬০), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৬০), মৎস্য অধিদপ্তর (১৯৬১), বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয় (১৯৬১), নিউমার্কেট (১৯৬৩), সামাজিক বন বিভাগ (১৯৬৪), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (১৯৬৪), পাবলিক সার্ভিস কমিশন (১৯৬৪), ডিআইজি পুলিশ অফিস (১৯৬৪), রাজশাহী চিনিকল (১৯৬৪), বিজ্ঞান গবেষণাগার (১৯৬৮), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি, ১৯৬৮), আঞ্চিলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস (১৯৬৯) স্থাপিত হলে শহরে অভিগমনকৃত জনগণের সংখ্যা বেড়ে যায় সাথে সাথে তাদের আবাসসস্থল নির্মিত হতে থাকে। শহরে জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি এবং তাদের বাস্তসংসস্থান হেতু ক্রমাগতভাবে ভৌত অবকাঠমো তৈরির অভিঘাত এসে পড়ে নদী, ডোবা, জলাশয়, খাল, পুকুরের উপর। রাজশাহী শহরের চিত্র পরিবর্তনের সাথে সাথে বারাহী নদী ভরাট, দখল, দূষণের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায় । ১৯৭১ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে রাজশাহী মহানগীর উন্নয়ন ধারা যেমন বিদ্যুৎ গতিতে বেড়ে যায় তেমনি বারাহী নদীর গলটিপে ধরার হারও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এ কথা বললে অৎতুক্তি হবে না যে, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বারাহী নদী পরাধীনই রয়ে যায়।
৭.
বর্তমানে এলাকাবাসী বিশেষ করে নদী তীরবাসী বারাহী নদীর এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। তারা এই নদীর সংস্কার চায়। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে মহানন্দখালী স্লুইসগেটের পাশে মুদি দোকানীর সাথে কথা বলে জানতে পারি তিনি বলেন, ‘রাজশাহী শহর থেকে ধেয়ে আসা ড্রেনেজ-সোয়ারেজের দুর্গন্ধযুক্ত পানির স্রোত আমরা আর দেখতে চাই না। পচা পানির উৎকট গন্ধ থেকে আমরা মুক্তি চাই। এই নদীর পচা পানির জন্য শুধু যে বারাহী নদীর ক্ষতি হচ্ছে তা নয়; পতিত স্থান বারনই নদীর পানিও দুষিত হচ্ছে। আমার বাড়ির পাশে বারনই নদীর মাছও গন্ধযুক্ত; মুখে নেওয়া যায় না।’
আমরা জানি, বারাহী নদীকে তাঁর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে নদীর বিজিবি ক্যাম্পের আগে আসাম কলোনি থেকে এর মোহনা নওহাটা পর্যন্ত ৮ কিমি নদী নয়ে পরিকল্পিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। আমরা নদী ও পরিবেশকর্মীরা মনে করি, বারাহী নদী নিয়ে সরকারের আর সময়ক্ষেপণ করা ঠিক হবে না। নদীকেন্দ্রিক যুৎসই, লাগসই, প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা প্রহণ করা দরকার। এতে শহরের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি পর্যটন শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে। সরকারও তার বেদখলকৃত নদীর জায়গা ফেরত পাবে। এছাড়া নদীকেন্দ্রিক ব্যবসায়-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান বেড়ে যাবে এবং সর্বোপরি পানি, মৎস্য সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বারাহী নদী নিয়ে মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। (লেখক: নদী ও পরিবেশকর্মী, সভাপতি : রিভারাইন পিপল, পাবনা)।