
মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ সংস্করণ। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ব্যাংকিং ও ফিনটেক খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং এ খাতের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিকাশে বিদ্যমান সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা এবং নীতিবিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে দেশের ফিনটেক খাতকে এগিয়ে নেওয়াই এই সামিটের লক্ষ্য। এ বছরের আলোচনায় উঠে আসে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা। অধিকতর মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় আনা, গ্রাহকের আস্থা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করার মতো বিষয় গুলোও আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
আয়োজনটির স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজিদ মাহবুব বলেন, “বাংলাদেশের ফিনটেক খাতের আগামী দিনের অগ্রগতি নির্ভর করবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমরা কতটা স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারি, তার ওপর। উদ্ভাবনের মাধ্যমে আর্থিক সেবাকে মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে এসব সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের আর্থিক সেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মান গড়ে তুলতে হবে।”
দুটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল ডিসকাশন, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ, একটি ইনসাইট সেশন এবং একটি কেইস স্টাডির সমন্বয়ে এ বছরের সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় আঞ্চলিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়।
সামিটের কিনোট সেশনগুলোতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নওশাদ হুসেইন, চিফ ব্যাংকিং অ্যান্ড নেটওয়ার্ক অফিসার, ট্রান্সফাই গ্লোবাল; ফর্মার গ্রুপ চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার, লাইটনেট গ্রুপ; ফর্মার মেম্বার অব দ্য বোর্ড অব ডিরেক্টরস, ইনসেপশন টেকনোলজি কো. লিমিটেড; ফর্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব গ্লোবাল রিটেইল পেমেন্টস, সিআইএমবি গ্রুপ; খুয়ান ইউ লি, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, রিজিওনাল হেড অব প্রোডাক্ট, জিএক্সব্যাংক, জিএক্সএস ব্যাংক অ্যান্ড গ্র্যাব; ফর্মার সিনিয়র প্রোডাক্ট লিডার, গ্লোবাল পেমেন্টস ফর আলিবাবা, অ্যান্ট গ্রুপ।
নওশাদ হুসেইনের কিনোট সেশনে আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন ও পারস্পরিক সংযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। খুয়ান ইউ লির কিনোট সেশনে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ব্যাংককে শূন্য থেকে দশ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ সেশনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গাজী ইয়ার মোহাম্মদ, কো-ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, কিউব মানি; কো-ফাউন্ডার, ডানা ফিনটেক; ফর্মার ইভিপি, হেড অব ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড। তিনি স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা থেকে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের গুরুত্ব এবং আর্থিক সেবায় এর প্রভাবও তুলে ধরেন।
এছাড়াও সামিটের অন্যান্য সেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ, নগদবিহীন লেনদেন এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবার মধ্যে সংযোগের মাধ্যমে আরও দশ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ আর্থিক অবকাঠামো, নতুন সেবা পরীক্ষার সুযোগ, এআই ব্যবহারে তদারকি এবং তথ্য ও গ্রাহক সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এই আলোচনাগুলোতে উপস্থিত ছিলেন, ওসমান এরশাদ ফায়েজ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি; মোহাম্মদ আলী, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, পুবালি ব্যাংক পিএলসি; সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি; ফারজানা চৌধুরী, চার্টার্ড ইনস্যুরার, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি; আলী রেজা ইফতেখার, অ্যাডভাইজর, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি; ফর্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি; শ্যামল বি. দাস, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেড- উপায়; জাকিয়া সুলতানা লাবণী, কান্ট্রি ম্যানেজার, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ; ইউসুপ ফারুক, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, র্যাপটাস; ফর্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মাইক্রোসফট- বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল; প্রফেসর ইমরান রহমান, ডিন অব বিজনেস অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভাইজর, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ; বোর্ড মেম্বার, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি; ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর অ্যান্ড ভাইস চেয়ারম্যান, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি; এবং অন্যান্য বক্তারা। তাঁরা ব্যাংকিং, পেমেন্টস, বীমা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে দেশের আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ৬ষ্ঠ সংস্করণটি বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। সাপোর্টেড বাই - ব্রেইন স্টেশন ২৩; ইনোভেশন পার্টনার - বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ; অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার - টার্কিশ এয়ারলাইন্স; হসপিটালিটি পার্টনার - র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল, ঢাকা; এবং পিআর পার্টনার - ব্যাকপেজ পিআর।