
প্রতিটি মণ্ডপ পাবে ২০ হাজার টাকা, ওয়াইফাই ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা
শামীম রহমান, রাজশাহী ব্যুরো: শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে রাজশাহী মহানগরীর ৮৫টি পূজামণ্ডপে মোট ১৭ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। প্রতিটি পূজামণ্ডপকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে ওয়াইফাই সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন রাসিকের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করাই সবার লক্ষ্য। পূজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলো কাজ করছে। রাসিকের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীকে গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটির পাশাপাশি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় পূজামণ্ডপের নেতারা ওয়াইফাই সংযোগের দাবি জানান। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি মণ্ডপে ওয়াইফাই সংযোগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন রাসিক প্রশাসক।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন, প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া ৮৫টি মণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, আশপাশের সড়ক মেরামত ও পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিসর্জন ঘাট প্রস্তুত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে পূজামণ্ডপ কমিটিগুলোকে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিসর্জনের সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ডুবুরি দল মোতায়েন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন রাসিকের সচিব সোহেল রানা।
এ সময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন কমিটির নেতা ও পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।