
রাজধানীর মিরপুরে ‘রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক’ ভাঙচুরের ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তাঁরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রোববার বিকেলে রাড্ডা সেন্টারের সামনে ঢাকা-১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল এক মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দাবি নয়।
রাড্ডা হাসপাতালটি দীর্ঘ সময় ধরে মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে, যা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে প্রশ্ন রাখেন, এত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না? যারা ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদের পেছনে শক্তিশালী মহলের মদদ রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীদের সুরক্ষা কবজ না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন। রাড্ডা হাসপাতাল থেকে আমাদের শত শত মা ও শিশু দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছে। গণমাধ্যমে এসেছে, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের পেছনেও প্রভাবশালী মদদদাতা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়। পুলিশি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি ভাঙচুর করা হয়েছে—আমরা সেই দৃশ্য দেখেছি। শত শত মা ও শিশু এখান থেকে নিয়মিত সেবা নিতো। আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা নিয়মিত এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।
সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সরকার ব্যর্থ হলে নাগরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন গঠনের কথা জানান তিনি। একই সাথে তিনি হাসপাতালটি পুনরায় সচল করা, লুট হওয়া ওষুধ ও মালামাল ফিরিয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানটিকে অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের দাবি জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালটির আইনগত কর্তৃত্ব সুস্পষ্ট হতে হবে এবং কোনো দালালচক্রের হাতে এর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধের কঠোর নির্দেশ দিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল থেকে লুট হওয়া একটি ওষুধও বাদ দেওয়া যাবে না, সবকিছু ফিরিয়ে দিতে হবে। চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। জনগণ রাস্তায় নেমে এলে আবারও জুলাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি সঠিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইনগত পদক্ষেপ নেন, তবে ভালো। অথচ এই হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, মিরপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি ভাঙচুর করার পরও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে টালবাহানা করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে পাবেল, লেনিন, শুভ্র, রাসেল ও সজীবের নাম উল্লেখ করে বলেন, এদের এবং তাদের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে কোনো গড়িমসি বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় সরকার এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন শাহ আলম তুহিন, ডা. মঈন উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মৃধা ও জি এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা ক্লিনিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জোরালো দাবি জানান। জ্বালানি তেল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছেন বলে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণ কী।