
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত ডিআইজি) মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের ব্যবস্থা থাকার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। এ ধরনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত। এটি সামাজিক অপরাধকে উৎসাহিত করার আশঙ্কাও তৈরি করে।
জুবায়ের বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কারা এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন, তা খুঁজে বের করে তাঁদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে শহর থেকে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত মাদকের বিস্তার ঘটেছে। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
তিনি মাদকের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ এবং দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
তবে ঘটনার বিষয়ে বাড়ির মালিকের বক্তব্য, পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।