
জাকির ফরাজী: পিরোজপুরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কিছুতেই থামছে না। চলতি বছরে জেলার আটটি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন চার হাজারের বেশি রোগী।
প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন ৫০ থেকে ৭০ জন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে থাকা এ জেলায় রোগীর চাপ বাড়লেও সদর হাসপাতালে রয়েছে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট। এর মধ্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। ফলে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাঁদের।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর সদর হাসপাতালসহ জেলার সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি বছরে চার হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জন। বর্তমানে সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১৬২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৮৩৭ জন। এ বছর ডেঙ্গুতে জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসক-নার্সের সংকট, বাড়ছে উদ্বেগ
ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে পিরোজপুরের পুরোনো ১০০ শয্যার হাসপাতাল থেকে নবনির্মিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী নার্সের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে রোগীর চাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে তিন দিন, বাড়তি খরচ
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিযোগও উঠেছে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের বিরুদ্ধে। রোগীর স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর পর রিপোর্ট পেতে তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
সময়ে রিপোর্ট না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাচ্ছেন। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের রোগীদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাস
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড আলাদা করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই চিকিৎসক সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষার সুবিধা চালু রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা জরুরি। কার্যকর পদক্ষেপ ও কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।